মঙ্গলবার ১৭, ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মঙ্গলবার ১৭, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ -- : -- --

রোজার আগে রান্নাঘর গুছান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:২২ পিএম

ফাইল ফটো

পবিত্র রমজান সামনে রেখে অনেক পরিবারেই শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। ইবাদত, সিয়াম ও দৈনন্দিন দায়িত্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে রোজার মাসে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে রান্নাঘরে। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগে থেকেই সঠিক পরিকল্পনা করলে রমজানে অযথা তাড়াহুড়া ও ক্লান্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

গৃহিণী ফারজানা হক বিথীর মতে, রোজা শুরুর আগেই কিছু প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রস্তুত করে রাখলে প্রতিদিনের রান্না সহজ হয়ে যায়। আদা-রসুন বেটে ছোট পাত্রে সংরক্ষণ করে ডিপ ফ্রিজে রাখলে সময় বাঁচে। একইভাবে মাছ-মাংস ধুয়ে পরিমাণমতো কেটে আলাদা প্যাকেটে রেখে দিলে প্রতিদিন নতুন করে প্রস্তুতির ঝামেলা থাকে না। চাইলে আগে থেকেই মসলা মাখিয়ে মেরিনেট করেও রাখা যেতে পারে, এতে রান্না দ্রুত সম্পন্ন হয়।

পুরো মাসের সম্ভাব্য বাজারের একটি তালিকা তৈরি করে একবারেই চাল, ডাল, তেল, মসলা ইত্যাদি শুকনো পণ্য কিনে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। তবে ফল ও সবজি সতেজ রাখতে অল্প অল্প করে কেনাই ভালো। এতে অপচয়ও কম হয়।

রোজার আগে রান্নাঘর ভালোভাবে পরিষ্কার করাও জরুরি। কৌটা খুলে মেয়াদোত্তীর্ণ বা নষ্ট খাবার ফেলে দিতে হবে। শুকনো খাবার পরিষ্কার ও শুকনো পাত্রে সংরক্ষণ করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমে। চুলা, হুড, ওভেন ও টাইলস পরিষ্কার করে রাখলে রমজানে বাড়তি চাপ তৈরি হয় না। টাইলস পরিষ্কারে লবণ ও বেকিং সোডার মিশ্রণ কার্যকর হতে পারে।

প্রতিদিনের সেহরি ও ইফতারের মেনু আগেই ঠিক করে রাখলে সিদ্ধান্তহীনতা কমে। ইফতারে অযথা পদের সংখ্যা বাড়ানোর বদলে পুষ্টিকর ও সহজপাচ্য খাবারের দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। কাজের তালিকা তৈরি করে চোখে পড়ার মতো স্থানে টাঙিয়ে রাখলে দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনা আরও সহজ হয়।

অতিথি আপ্যায়নের সম্ভাবনা থাকলে কিছু খাবার আধা-প্রস্তুত অবস্থায় ফ্রিজে রাখা যেতে পারে। পাশাপাশি ছোলা, খেজুর, ডাল, আলু ও প্রয়োজনীয় কিচেন সামগ্রী আগেই কিনে রাখলে শেষ মুহূর্তের দৌড়ঝাঁপ এড়ানো সম্ভব।

সামান্য পরিকল্পনা ও গোছানো ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রোজার মাসটি হতে পারে আরও স্বস্তিদায়ক, পরিপাটি ও ইবাদতমুখর।

Link copied!