প্রকাশিত: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:০৭ পিএম
এবার পবিত্র রমজানে মাধ্যমিক স্তরের বিদ্যালয় (ষষ্ঠ-দশম) খোলা রেখে বাৎসরিক ছুটির তালিকা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তাতে আপত্তি শিক্ষক ও অভিভাবকদের। লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েও সাড়া না পাওয়ায় বিষয়টি গড়ায় হাইকোর্টে। রিট আবেদন করেন এক আইনজীবী। রিটের ওপর শুনানির পর উচ্চ আদালত ১৮ ফেব্রুয়ারি (রোজা শুরুর সম্ভাব্য তারিখ) থেকে নিম্ন-মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেন।
ধারণা করা হচ্ছিল-হাইকোর্টের আদেশ মেনে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে স্কুলে ছুটি ঘোষণা করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে দেখা গেলো ভিন্নচিত্র। নিজেদের সিদ্ধান্তেই অনড় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তারা হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত রমজানে স্কুল বন্ধে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন।
কাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের আপিলের ওপর শুনানি হবে। সেখান থেকে আসবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। ফলে এ নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন-রমজানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখতে সরকার তথা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এত তোড়জোড় কেন?
যে কারণে স্কুল খোলা রাখতে চায় মন্ত্রণালয়
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, শিক্ষকদের আন্দোলন, বৈরী আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বছরে নির্ধারিত যে ক্লাস হওয়ার কথা, তা কোনো বছরই হয়নি। এতে পাঠদান ব্যাহত হয়। শিক্ষার্থীদের মাঝে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের শিখন ঘাটতি। ধারাবাহিক এ শিখন ঘাটতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, গত বছর মাউশির মনিটরিং ও ইভালুয়েশন বিভাগ থেকে শিক্ষার্থীরা কেমন শিখছে, তা নিয়ে প্রতিবেদন করা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, গণিত, বিজ্ঞান ও ইংরেজিতে শিক্ষার্থীরা খুবই দুর্বল। তারা কোনো রকমে উপরের ক্লাসে উঠে গেছে। যেটুকু তাদের শেখাটা বাধ্যতামূলক, সেটুকুও শিখতে পারেনি। এর পেছনে যেসব কারণ উঠে এসেছে, তার মধ্যে অন্যতম ক্লাস কম হওয়া। কোথাও কোথাও বছরে ১০০ দিনেরও কম ক্লাস হয়েছে বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এজন্য ক্লাসের সংখ্যা বাড়াতে ছুটি কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা বিশেষজ্ঞরাও একই পরামর্শ দিয়েছেন।
