সোমবার ০২, নভেম্বর ২০২৬

সোমবার ০২, নভেম্বর ২০২৬ -- : -- --

পাবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটির কমিটি গঠনে শিবির সভাপতির হস্তক্ষেপের অভিযোগ

ফাইল ফটো

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) বিতর্ক সংগঠন পাস্ট ডিবেটিং সোসাইটির (পাস্টডিএস) নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি হৃদয় আলম উল্লাসের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। নিজের পছন্দের প্রার্থীকে নির্দিষ্ট পদে রাখতে না পেরে তিনি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের সঙ্গে বিরোধে জড়ান এবং সংগঠনটি থেকে পদত্যাগ করেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৩১ আগস্ট পাস্ট ডিবেটিং সোসাইটির অষ্টম কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ শেষ হয়। এরপর নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে সংগঠনটির অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া শুরু করেন। পাশাপাশি কয়েক দফায় নিজেদের মধ্যে এবং সদ্য বিদায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন তাঁরা।

তবে নতুন কমিটি নিয়ে সদ্য বিদায়ী কমিটির সদস্যরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে জটিলতা তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদায়ী কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক একদিকে এবং বাকি ছয়জন সদস্য অন্যদিকে অবস্থান নেন। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের শিক্ষার্থী আল আমিন হোসেনকে নতুন কমিটির সভাপতি হিসেবে রাখতে চাইলেও অপর ছয়জনের পক্ষ থেকে তাঁকে সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক—কোনো পদেই না রাখার অবস্থান নেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ছয় সদস্যের এই অংশকে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও পরিসংখ্যান বিভাগের দশম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী তাসিন রহমান সমর্থন দিচ্ছিলেন। পাস্ট ডিবেটিং সোসাইটিতে তাসিন রহমান ও একই বিভাগের দশম ব্যাচের আরেক শিক্ষার্থী নাজমুস সাকিব সিজানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে দলীয় বলয় তৈরি করে রাখার অভিযোগও রয়েছে। এর আগেও যোগ্যতা বিবেচনার পরিবর্তে পছন্দের ব্যক্তিদের কমিটিতে পদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, নতুন কমিটির জন্য সাক্ষাৎকার গ্রহণের পর অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের মধ্যে ভোটাভুটি হয়। এতে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের শিক্ষার্থী আল আমিন হোসেনকে সভাপতি এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী ফজলে রাব্বীকে সাধারণ সম্পাদক করার পক্ষে সিদ্ধান্ত হয়। ভোটের সময় হৃদয় আলম উল্লাস আল আমিন হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

পরবর্তীতে গত ৩১ অক্টোবর রাতে চূড়ান্ত কমিটি ঘোষণার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা বৈঠকে বসেন। তবে সেখানেও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কাকে রাখা হবে, তা নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। এ সময় হৃদয় আলম উল্লাস জানান, তিনি আল আমিন হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে চান না। নিজের ভোট পরিবর্তন করে সুব্রত কুমার বিশ্বাসকে ভোট দেবেন বলেও জানান তিনি।

এ নিয়ে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর তর্ক-বিতর্ক হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে তিনি জানান, তাঁর মত অনুযায়ী কমিটি না হলে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন থেকে পদত্যাগ করবেন। এরপর বৈঠক থেকে বের হয়ে যান এবং ডিবেটিং সোসাইটির মেসেঞ্জার গ্রুপ থেকেও বেরিয়ে আসেন।

এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে তিনি লেখেন, “আমি পাস্ট ডিবেটিং সোসাইটির অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের স্বেচ্ছাচারী, স্বৈরাচারী, পক্ষপাতদুষ্ট, অগণতান্ত্রিক ও একতরফা কর্মকাণ্ড এবং অসচ্ছ সিদ্ধান্ত গ্রহণের আচরণের জন্য স্বেচ্ছায়, সজ্ঞানে ও সম্পূর্ণ নিজস্ব সিদ্ধান্তে পদত্যাগ করছি।”

একই পোস্টে তিনি আরও লেখেন, “অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ভবিষ্যতের যেকোনো স্বেচ্ছাচারী, পক্ষপাতমূলক, বৈষম্যমূলক, অসচ্ছ, অনিয়মতান্ত্রিক ও অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত কিংবা কর্মকাণ্ডের দায়ভার তিনি গ্রহণ করবেন না।”

এ সময় হৃদয় আলম উল্লাসের সঙ্গে পরিসংখ্যান বিভাগের দশম ব্যাচের তাসিন রহমানসহ আরও কয়েকজন সদস্য মেসেঞ্জার গ্রুপ থেকে বের হয়ে যান।

অভিযোগ রয়েছে, চূড়ান্ত কমিটি প্রকাশের প্রায় এক সপ্তাহ আগে থেকেই হৃদয় আলম উল্লাস ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি আবদুর রউফকে বারবার ফোন করে দ্রুত কমিটি প্রকাশের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। দ্রুত কমিটি ঘোষণা করা না হলে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন কিংবা কমিটির কারও সঙ্গে আর বৈঠকে বসবেন না বলেও তিনি জানিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে পাস্ট ডিবেটিং সোসাইটির অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের এক সদস্য জানান, কমিটি গঠনের বিষয়ে হৃদয় আলম উল্লাসকে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। তিনি নিজ উদ্যোগেই এসব করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংগঠনটির এক সাবেক বিতার্কিক বলেন, “কোনো এক অজানা কারণে নতুন কমিটি গঠন নিয়ে সিদ্ধান্ত আসছিল না। সময় পেরিয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু সংশ্লিষ্টরা সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না। সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে যাঁদের শীর্ষ অবস্থানে রাখা হয়েছিল, তাঁদের বিরুদ্ধে একটি অংশ বিভিন্ন অভিযোগ তুলতে থাকে। এ ছাড়া সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মতামত পরিবর্তনের চেষ্টাও করা হয়।”

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংগঠনটির আরেক সাবেক বিতার্কিক বলেন, “সে একটা সংগঠনের রানিং সভাপতি। অধিকাংশের মতামতের যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তাকে সেটাই মেনে নিতে হতো। কিন্তু সে সেটা না করে নিজের মতের লোক দিয়ে কমিটি হয়নি বলে বের হয়ে গেছে। এটা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক। এখানে তার দলীয় কোনো এজেন্ডাও থাকতে পারে।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পাবিপ্রবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি হৃদয় আলম উল্লাস বলেন, “আমি পাস্ট ডিবেটিং সোসাইটির সাবেক সভাপতি ছিলাম এবং অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের একজন সদস্য। আমি ছাত্রশিবিরের সভাপতি, সেটা ভিন্ন আলোচনা। কমিটি নিয়ে কোনো ধরনের ঝামেলা হয়নি। ডিবেটিং সোসাইটিতে অযোগ্যরা কখনো দায়িত্ব পেয়েছেন, এমন ঘটনা কখনোই ঘটেনি।

“দায়িত্ব পাওয়ার জন্য যারা সবচেয়ে যোগ্য, তাদের নিয়ে ভোটাভুটি হয়। এরপর যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়। যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কাউকে ভোট দিলে তাঁর পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করতে হয়। আমার পদত্যাগের বিষয়টি কমিটি গঠন নিয়ে কোনো ইস্যু নয়। আমাদের অ্যালামনাইদের অভ্যন্তরীণ কিছু বিষয় নিয়ে আমি পদত্যাগ করি। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করার বিষয়টি সঠিক নয়।”

Link copied!