প্রকাশিত: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪৮ পিএম
পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং মিরপুরে আন্দোলনরত গার্মেন্টস শ্রমিকদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মশাল মিছিল ও সমাবেশ করেছে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট।
রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পায়রা চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি ভিসি চত্বর, কলাভবনের শ্যাডো, মধুর ক্যানটিন ও কেন্দ্রীয় মসজিদ এলাকা প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মিছিল থেকে ‘শ্রমিকদের ওপর হামলা কেন, বিএনপি জবাব দে’, ‘শ্রমিকদের ওপর হামলা কেন, তারেক রহমান জবাব দে’, ‘লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা।
সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি নাঈম উদ্দীন বলেন, শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবির সঙ্গে অন্য পেশার মানুষের মজুরি বৃদ্ধির কোনো বিরোধ নেই। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বাড়িভাড়া, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যয় বিবেচনায় বর্তমান মজুরিতে শ্রমিকদের পক্ষে পরিবার নিয়ে জীবনযাপন করা কঠিন। অথচ মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে রাস্তায় নামলে শ্রমিকদের ওপর লাঠিচার্জ ও দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি করা হলেও সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন করলে তাঁদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। মিরপুরের ১০ ও ১২ নম্বর এলাকায় শ্রমিকদের মারধর এবং পুলিশ ভ্যানে তুলে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি অবিলম্বে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক বলেন, মিরপুর, গাজীপুর ও আশপাশের এলাকায় ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর পুলিশের দমন-পীড়ন নিন্দনীয়। শ্রমিকদের আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্যও প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘সরকারের মন্ত্রী ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বলছেন, আন্দোলন ভিন্ন খাতে নেওয়া হচ্ছে এবং এর পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন খুঁজছেন। ক্ষমতার হাতবদল হয়, কিন্তু ক্ষমতার ভাষার পরিবর্তন হয় না।’
মোজাম্মেল হক আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পেছনে বিএনপি ও জামায়াতকে দায়ী করা হতো। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগকে দায়ী করা হয়েছে। আর এখন বিএনপি সরকার শ্রমিকদের আন্দোলনে রাজনৈতিক ইন্ধন খুঁজছে। আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য খোঁজা বন্ধ, শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি মেনে নেওয়া এবং পুলিশের হামলা, হয়রানি, গ্রেপ্তার ও নির্যাতন বন্ধের দাবি জানান তিনি।
বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক তৈয়ব ইসলাম বলেন, যাঁদের শ্রমের ওপর বাংলাদেশের পোশাকশিল্প ও অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে, সেই শ্রমিকেরাই কারখানার ভেতরে ও বাইরে নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। ন্যায্য মজুরির দাবিতে মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ না পেয়ে তাঁরা রাস্তায় নামলেও পুলিশের হামলার মুখে পড়ছেন।
তিনি আরও বলেন, পোশাকশিল্প থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় হলেও শ্রমিকেরা তার ন্যায্য অংশ পাচ্ছেন না। বর্তমান মজুরিতে শ্রমিকদের পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকা কঠিন। তাই পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে।
