সোমবার ০২, নভেম্বর ২০২৬

সোমবার ০২, নভেম্বর ২০২৬ -- : -- --

৪৩ কোটি টাকার ব্যবসায় শেষ হলো পর্যটন মেলা, দর্শনার্থী ৪৫ হাজার

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৪ পিএম

ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার ও টেকসই পর্যটন ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) ২০২৬। তিন দিনব্যাপী এ মেলায় প্রায় ৪৩ কোটি টাকার বিক্রয় ও বাণিজ্যিক লেনদেন হয়েছে। পাশাপাশি মেলা পরিদর্শন করেছেন প্রায় ৪৫ হাজার দর্শনার্থী।

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) আয়োজিত ১৪তম এ মেলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের টিকিট বিক্রিতে উল্লেখযোগ্য সাড়া পাওয়া গেছে।

গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তিন দিনের এ আয়োজন শেষ হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

সমাপনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদ, বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি জিএম আজিজুর রহমান এবং টোয়াবের সভাপতি ও নেতৃবৃন্দ।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন খাতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করার পাশাপাশি এভিয়েশন খাতের পরিসর বাড়ানো হচ্ছে। পর্যটন খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে একটি মহাপরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এ পরিকল্পনার আওতায় হোটেল ও রিসোর্টগুলোকে নিয়মনীতি, প্রযুক্তি ও টেকসই পরিকল্পনার মাধ্যমে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রিসোর্টগুলোতে বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণে সৌর প্যানেল স্থাপন এবং ন্যাশনাল হোটেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (এনএইচটিটিআই) মাধ্যমে তরুণদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পর্যটনমন্ত্রী আরও বলেন, পর্যটন গন্তব্যগুলোর ব্যবস্থাপনা, পর্যটকদের নিরাপত্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ ও জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ডিজিটাল তথ্যসেবা ও স্মার্ট মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর সুযোগ রয়েছে। প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার এবং নিয়মকানুনের কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে পর্যটন গন্তব্যগুলোকে আরও দায়িত্বশীল ও টেকসই করা সম্ভব।

সমাপনী অনুষ্ঠানের আগে মেলার মূল ভেন্যু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) ‘এআই ফর সাসটেইনেবল ট্যুরিজম অপারেশন’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে পর্যটন খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং টেকসই উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন বিশেষজ্ঞরা।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, পর্যটকদের অনুসন্ধান ও বুকিং ব্যবস্থাপনা, মূল্য নির্ধারণ, ভ্রমণসূচি তৈরি, আতিথেয়তা সেবার মান উন্নয়ন এবং ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা দূর করতে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ছাড়া পর্যটনকেন্দ্রে অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণ, স্থানীয় ব্যবসার প্রসার, বিমান চলাচলে জ্বালানি সাশ্রয় এবং পরিবেশগত প্রভাব কমাতেও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা।

বক্তারা আরও বলেন, পর্যটন খাতে এআইয়ের কার্যকর প্রয়োগের জন্য পর্যাপ্ত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য, দক্ষ জনবল, উন্নত অবকাঠামো এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব প্রয়োজন। তবে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে গিয়ে পর্যটনের মানবিক দিক, আন্তরিকতা, আতিথেয়তা ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা যেন অক্ষুণ্ণ থাকে, সেদিকেও নজর দিতে হবে।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন টোয়াবের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ শাফত উদ্দিন আহমেদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্বদেশী কমিউনিকেশনসের সিইও সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন মাহমুদ। আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাহবুব পারভেজ। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন ধ্রুবতারা ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান কবির।

আলোচনায় পর্যটনের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত দিক সমন্বয়ে এআই ব্যবহারের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, পর্যটকদের ভ্রমণ প্রবণতা বিশ্লেষণ, কার্যকর ভ্রমণ পরিকল্পনা তৈরি, পরিচালন ব্যয় কমানো এবং পর্যটন গন্তব্যের ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে তথ্যভিত্তিক প্রযুক্তির ব্যবহার সহায়ক হতে পারে।

এ ছাড়া বিমান চলাচলে এআইভিত্তিক রুট পরিকল্পনা ও জ্বালানি সাশ্রয়, আবহাওয়া, সাপ্তাহিক ছুটি, বুকিংয়ের পরিমাণ এবং যোগাযোগব্যবস্থার তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে পর্যটন ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার বিষয়ে আলোচনা হয়। পর্যটন খাতের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়নেও প্রযুক্তির ভূমিকা তুলে ধরেন বক্তারা।

এবারের মেলায় নেপাল, ভারত, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ, ফিলিপাইন, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ব্রুনাই, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও আজারবাইজানসহ ২০টি দেশের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রতিনিধি এবং সংস্থা অংশ নেয়।

মেলায় পার্টনার কান্ট্রি হিসেবে ছিল মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপাইন ও নেপাল। টাইটেল স্পন্সর ছিল ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।

এ ছাড়া এয়ারলাইন্স পার্টনার হিসেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, প্লাটিনাম হসপিটালিটি পার্টনার হিসেবে ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্ট, জিডিএস পার্টনার হিসেবে সেবার, পিআর পার্টনার হিসেবে ওপাস কমিউনিকেশনস লিমিটেড, টেকনোলজি পার্টনার হিসেবে এম৩৬০আইসিটি, ট্রান্সপোর্ট পার্টনার হিসেবে কনভয় সার্ভিস, ডিজিটাল পার্টনার হিসেবে মায়েস্ট্রো এবং অডিও-ভিজ্যুয়াল পার্টনার হিসেবে প্যানোরামা পিসি ক্রিয়েটরস ও রুচি যুক্ত ছিল। ভেন্যু পার্টনার ছিল বিসিএফসিসি।

‘এআই পাওয়ার্ড ট্যুরিজম, সাসটেইনেবল ডেস্টিনেশন’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত এবারের বিটিটিএফ বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি অংশীজনদের মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে পর্যটন খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

Link copied!