সোমবার ১২, অক্টোবর ২০২৬

সোমবার ১২, অক্টোবর ২০২৬ -- : -- --

জবিতে মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালিত, কাউন্সেলিং সেবা বাড়ানোর ঘোষণা ভিসির

রাশেদুজ্জামান রাশেদ,জবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫১ পিএম

সংগৃহীত

র‌্যালি, সেমিনার, ওয়ার্কশপ ও মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়নসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। আজ রোববার (১১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের আয়োজনে দিনব্যাপী এসব কর্মসূচি পালিত হয়। শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ মোকাবিলা ও সুস্থতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘জীবনের অভিজ্ঞতা শুনি: সত্যিকারের কথা, সত্যিকারের পরিবর্তন’।

​কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা ও প্রতিকার’ শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীন শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নেওয়া নতুন প্রশাসনিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

​উপাচার্য বলেন, “বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই মানসিক স্বাস্থ্যচর্চাকে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের নিয়মিত চর্চার বিষয়। শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষাও সমান জরুরি। কিন্তু আমাদের দেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোবিজ্ঞান বিভাগ থাকা সত্ত্বেও জাতীয় পর্যায়ে এ বিষয়ের পেশাগত গুরুত্ব ও যথাযথ মূল্যায়নের ঘাটতি রয়েছে।” উন্নত বিশ্বের উদাহরণ টেনে তিনি যোগ করেন, ইউরোপ-আমেরিকার তুলনায় বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য খাতের পেশাগত মূল্যায়ন ও সেবাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাই অবনতির অন্যতম কারণ।

​শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের সংকট ও হতাশা প্রসঙ্গে উপাচার্য উল্লেখ করেন, আবাসন সংকট, সীমিত চিকিৎসাসেবা ও পারিপার্শ্বিক নানা প্রতিকূলতা শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপের প্রধান কারণ। এ পরিস্থিতি উত্তরণে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাসের মাথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানোগ্রামে মানসিক স্বাস্থ্য কাউন্সেলিংয়ের জন্য নতুন পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টিও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। খুব দ্রুতই এসব সেবা শিক্ষার্থীরা সরাসরি পেতে শুরু করবেন।

​২০২৪ সালের পটপরিবর্তন পরবর্তী পরিস্থিতি তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের পর মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে কতটুকু সংস্কার আনা সম্ভব হয়েছে এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে কী কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে হবে। বিশেষ করে তরুণদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিতে বাস্তবসম্মত কৌশল গ্রহণ জরুরি।” পাশাপাশি প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ওপরও তিনি জোর দেন।

​মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফাতেমা-তু-জোহরা বিনতে জামানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ আবদুল আলীম এবং মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী সাইফুদ্দীন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ (কি-নোট) উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. অশোক কুমার সাহা। এছাড়া বিশেষ বক্তা হিসেবে আলোচনা করেন অধ্যাপক ড. নূর মোহাম্মাদ ও অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আকরাম উজ্জামান। সেমিনার চলাকালে মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় তিনটি পৃথক শিরোনামে প্রায়োগিক ওয়ার্কশপ পরিচালিত হয়।

​এর আগে সকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীনের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে একটি বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক র‌্যালি বের করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে র‌্যালিটি পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে।

​র‌্যালি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার চত্বরে মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরিচালিত ‘মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন’ (মেন্টাল হেলথ অ্যাসেসমেন্ট) স্টল পরিদর্শন করেন উপাচার্য। দিনব্যাপী এসব স্টলে আগত শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বিষণ্ণতা ও আত্মসম্মানবিষয়ক প্রাথমিক স্ক্রিনিং ও প্রয়োজনীয়

Link copied!