রাশেদুজ্জামান রাশেদ,জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৫ পিএম
সোমবার ১২, অক্টোবর ২০২৬ -- : -- --
মো. আসাদুজ্জামান আসলাম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান আসলামকে ঘিরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের নতুন নেতৃত্ব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে আলোচনা। মেধা, শালীনতা, নেতৃত্বগুণ ও সাংগঠনিক দক্ষতার পাশাপাশি দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় ত্যাগ-সংগ্রামের কারণে সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে তার নাম। তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ ও সংগঠন পরিচালনার অভিজ্ঞতার কারণে দক্ষিণ যুবদলের নেতৃত্বে আসলামের সম্ভাবনা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।
জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ হওয়ার পর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের নতুন নেতৃত্ব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোতে সাংগঠনিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া জোরদার হওয়ায় যেকোনো সময় ঘোষণা হতে পারে মহানগরের এই কমিটি। আর এই কমিটির দক্ষিণ যুবদলের সভাপতি পদে তৃণমূল নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক মহলের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের সাবেক সফল সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান আসলাম।
ফ্যাসিস্ট শাসনামলে রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সময়ে হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হন এই ত্যাগি নেতা আসাদুজ্জামান আসলাম। রাজনেতিক জীবনে তিনি কখনো হামলার শিকার হয়েছেন, কখনো আহত হয়েছেন আবার মামলা ও গ্রেপ্তারের মতো পরিস্থিতিতেও তাকে পরতে হয়েছে বারবার। কিন্তু তিনি এসব কারনে রাজনীতি থেকে কখনো সরে যাননি বরং বার বার মানুষের অধিকার ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার জন্যও আন্দোলন সংগ্রাম করে গেছেন।
ছাত্রজীবনে রাজনীতির পাশাপাশি টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা ও জীবনযাত্রার খরচ চালিয়েছেন আসাদুজ্জামান আসলাম। ছাত্ররাজনীতির ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের দায়িত্ব নিজেই বহন করার চেষ্টা করেছেন তিনি। তার কাছে টিউশনি করে উপার্জন করা কোনো লজ্জার বিষয় নয়; বরং আত্মনির্ভরশীলতা ও নিজের দায়িত্ব নিজে নেওয়ার অংশ। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি পড়াশোনা ও ব্যক্তিগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন সচেতন ও দায়িত্বশীল।
এছাড়াও ছাত্রজীবনে রাজনীতির পাশাপাশি টিউশনি করার ব্যস্ততার মধ্যেও বই পড়া ও লেখালেখির প্রতি তার ছিল গভীর আগ্রহ। পড়াশোনা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও ব্যক্তিগত ব্যস্ততার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাকে তিনি নিজের জীবনের অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
বর্তমান সময়েও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়, কবিতা ও আবৃত্তি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার লেখালেখি অব্যাহত রয়েছে। তার লেখায় সমকালীন সমাজ, মানুষের অনুভূতি, জীবনবোধ ও নানা বাস্তবতার প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়।
সাহিত্যের প্রতি এই ভালোবাসা থেকেই ছাত্রজীবনেই তিনি চারটি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেছেন। তার রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো ‘নয়নতারা’, ‘প্রেক্ষাপট’, ‘কল্পিত নয়’ ও ‘সংমিশ্রণ’। তার এসব কাব্যগ্রন্থ প্রতিবছর অমর একুশে বইমেলায় প্রদর্শিত হয়ে আসছে। রাজনীতি, সংগঠন ও নেতৃত্বের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চায় তার এই সক্রিয়তা তাকে একজন বহুমাত্রিক ও সৃজনশীল ব্যক্তিত্ব হিসেবে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।
মেধা, শালীনতা, ব্যক্তিত্ব, সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতৃত্বগুণে মো. আসাদুজ্জামান আসলাম অন্যদের থেকে আলাদা। চিন্তাশীলতা, দায়িত্ববোধ, বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং মানুষের সঙ্গে আন্তরিকভাবে মিশে যাওয়ার সক্ষমতা তার নেতৃত্বকে স্বতন্ত্র করেছে। নেতৃত্বে দৃঢ়তার পাশাপাশি আচরণে বিনয়ী আসলাম সংগঠনের প্রতি নিষ্ঠা, সহকর্মীদের প্রতি সম্মান এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ধৈর্য ধরে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অন্যদের অনুপ্রাণিত করার সক্ষমতা তাকে একজন দক্ষ ও সম্ভাবনাময় নেতা হিসেবে তুলে ধরেছে।
আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের বিষয়ে জানতে পারলে তাদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন মানবিক ছাত্রনেতা জবি ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান আসলাম। সম্প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের এক মেয়ে শিক্ষার্থীর পড়াশোনার উপক্রম বন্ধ হওয়ার মতো সেসময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন আসলাম। যার ফলে ওই শিক্ষার্থী পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন ছাত্রনেতা আসলামের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, "ছাত্রদলের চরম দুঃসময়ে আসলাম অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। প্রতিটি আন্দোলন ও সংগ্রামে তার অবদান ছিল অপরিসীম। প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেও অনন্য মেধা, সততা ও অসাধারণ বিনয় তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা এবং সমাদৃত করে তুলেছে।"
আসলামের ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, আসলামের মতো বিনয়ী ও অমায়িক ছাত্রনেতা সমসাময়িক রাজনীতিতে সত্যিই বিরল। একাধারে মেধাবী ও কঠোর পরিশ্রমী এই তরুণের মাঝে নেতৃত্বের সকল গুণাবলি বিদ্যমান। আমি শুনেছি ছাত্ররাজনীতি করার পাশাপাশি সে টিউশনি করত, যা আজকের তরুণদের জন্য নীতিবান হওয়ার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
একইভাবে আসলামের ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক বলেন, “আসলাম অত্যন্ত ভদ্র, মানবিক ও মিশুক একজন মানুষ। একজন ছাত্রনেতার মধ্যে যে গুণাবলি থাকা প্রয়োজন, তার প্রায় সবই তার মধ্যে রয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, তিনি শিক্ষিত, মার্জিত ও শিষ্টাচার সম্পর্কে অবগত। কাকে কীভাবে সম্মান করতে হয়, ছোটদের প্রতি কীভাবে স্নেহ দেখাতে হয় এবং বড়দের কীভাবে মর্যাদা দিতে হয় এসব বিষয়ে তিনি অন্যদের জন্য অনুসরণীয় উদাহরণ।”
তিনি আরও বলেন,"অন্য নেতাদেরও আসলামের কাছ থেকে এসব গুণ শেখা উচিত। তিনি নেতা হিসেবে একটি রোল মডেল ছিলেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য তিনি একজন মূল্যবান সম্পদ (অ্যাসেট) ছিলেন। ভবিষ্যতেও যদি এ ধরনের মানবিক, শিক্ষিত ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব সামনে আসে, তাহলে তারা দেশ ও সমাজের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। দেশ ও জাতির জন্য এমন নেতৃত্বেরই প্রয়োজন।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণে, মহানগর দক্ষিণ যুবদলের নেতৃত্বে আসতে হলে শুধু ছাত্ররাজনীতির অভিজ্ঞতা নয়, মাঠপর্যায়ে সংগঠন পরিচালনা, নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় এবং বৃহত্তর সাংগঠনিক পরিসরে গ্রহণযোগ্যতাও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে আসলামের ক্ষেত্রে জবি ছাত্রদলের নেতৃত্বকালীন ভূমিকা এবং তার সাংগঠনিক সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা হতে পারে।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের কঠিন সময়ের কথা উল্লেখ করে আসলাম বলেন, "জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন দায়িত্ব পালন করেছি, তখন অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সংগঠনকে এগিয়ে নিতে হয়েছে। সেই সময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। ব্যক্তিগতভাবে ও রাজনৈতিকভাবে যত বাধাই এসেছে, সংগঠনের কর্মসূচি ও নেতাকর্মীদের মনোবল ধরে রাখাকে আমি বেশি গুরুত্ব দিয়েছি।”
ছাত্রজীবনে টিউশনি করে নিজের খরচ চালানোর বিষয়ে আসলাম বলেন, "ছাত্ররাজনীতির পাশাপাশি নিজের পড়াশোনা ও জীবনযাত্রার খরচ নিজেকেই বহন করতে হয়েছে। তাই টিউশনি করেছি। আমার কাছে এটা কোনো লজ্জার বিষয় নয়; বরং নিজের দায়িত্ব নিজে নেওয়ার বিষয়। রাজনীতি করার কারণে পড়াশোনা বা ব্যক্তিগত দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার পক্ষে আমি নই।”
জুলাই-আগস্টের আন্দোলন এবং পরবর্তী সময়ে তার ভূমিকার বিষয়ে তিনি বলেন, "দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমেছিল। তখন সংগঠনের একজন কর্মী ও নেতা হিসেবে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। ৫ আগস্টের পরও আমরা চেয়েছি এলাকায় যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয় এবং সব ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদে থাকতে পারে। সে কারণেই পূজামণ্ডপসহ বিভিন্ন জায়গায় নিরাপত্তার বিষয়ে নেতাকর্মীদের সক্রিয় থাকতে বলেছি এবং নিজেও স্ব-শরীরে রাত-দিন মাঠে থেকেছি।”
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সভাপতি পদে তর নাম আলোচনায় আসার বিষয়ে আসলাম বলেন,"দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। দল যদি আমাকে কোনো দায়িত্ব দেওয়ার উপযুক্ত মনে করে, তাহলে আমি সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করব। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতির সময় যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, সেটি কাজে লাগিয়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও নেতাকর্মীবান্ধব করার চেষ্টা থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, "আমি পদকে লক্ষ্য হিসেবে দেখি না। সংগঠনের জন্য কাজ করাটাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। দায়িত্ব পেলে তরুণদের সংগঠিত করা, নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার দিকে গুরুত্ব দিতে চাই।”