প্রকাশিত: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ডিআইইউ) আয়োজিত ‘শিল্প-শিক্ষায়তন সংযোগ উন্নয়ন’ বক্তৃতামালার ১৮তম পর্বে বক্তব্য দিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী রানার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতের বাজারের চাহিদা ও সম্ভাবনা আগেভাগে বুঝতে পারা, নিজের দক্ষতা কাজে লাগানো, সততা এবং সঠিক নিয়মে ব্যবসা পরিচালনাই উদ্যোক্তার সফলতার অন্যতম চাবিকাঠি।
রোববার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর বিরুলিয়ায় ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটিতে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্মেলন কক্ষে এ বক্তৃতার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মাসুম ইকবাল।
হাফিজুর রহমান খান বলেন, “যে উদ্যোক্তা ভবিষ্যৎ দেখতে পায়, সেই সফল ব্যবসায়ী হয়।” তাঁর মতে, বাজারের আগামী দিনের চাহিদা বা সম্ভাবনা আগে থেকে অনুমান করতে পারা একজন সফল উদ্যোক্তার অন্যতম প্রধান শক্তি।
তিনি ব্যবসায় সততা ও প্রচলিত আইন-কানুন মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনৈতিক উপায়ে দ্রুত বড় হওয়ার পরিবর্তে নিয়মতান্ত্রিকভাবে দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তি গড়ে তোলাকেই তিনি টেকসই ব্যবসায়িক সাফল্যের মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে হাফিজুর রহমান খান বলেন, চাকরি ছেড়ে যখন তিনি ব্যবসা শুরু করেন, তখন থেকেই একটি বড় শিল্পগোষ্ঠী গড়ে তোলা এবং দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির স্বপ্ন ছিল তাঁর। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কঠোর পরিশ্রম ও লেগে থাকার মাধ্যমে তিনি এগিয়ে গেছেন বলে জানান।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান। এ ছাড়া বক্তব্য দেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইনোভেশন সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন এবং ইনোভেশন ও উদ্যোক্তা বিভাগের প্রধান কামরুজ্জামান সিদ্দার।
ড. মো. সবুর খান বলেন, বাংলাদেশের মধ্যে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করার জন্য বিশেষায়িত বিভাগ রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন এবং সফল উদ্যোক্তাদের দিকনির্দেশনা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অভিজ্ঞতা অর্জন করে ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন।
ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে ‘শিল্প-শিক্ষায়তন বক্তৃতামালা’ ২০১৬ সালে শুরু হয়। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট উদ্যোক্তা ও শিল্পোদ্যোক্তারা উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও ব্যবসার বিভিন্ন দিক নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছেন।
এ বক্তৃতামালার উল্লেখযোগ্য অংশ নিয়ে ‘পৃথক উদ্যোক্তাদের জীবনসংগ্রাম’ শিরোনামে একটি গ্রন্থও প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খানের সম্পাদনায় প্রকাশিত গ্রন্থটির দ্বিতীয় খণ্ড শিগগিরই প্রকাশিত হবে বলে জানানো হয়েছে। এতে ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সালের মধ্যবর্তী সময়ে জন্ম নেওয়া উদ্যোক্তাদের জীবন ও সংগ্রামের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হবে।
