প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণের দাবিতে উপাচার্যের কাছে আবেদনপত্র জমা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহতাছিম বিল্লাহ পাটোয়ারী রিফাত স্বাক্ষরিত এ আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের অন্যান্য নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
আবেদনে বলা হয়, একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সাশ্রয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিচালন ব্যয় কমানো সম্ভব।
এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, আবাসিক হলসহ উপযুক্ত স্থাপনার ছাদে পর্যায়ক্রমে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি একটি সমন্বিত ‘সোলার পাওয়ার মাস্টার প্ল্যান’ প্রণয়ন করে ধাপে ধাপে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ক্যাম্পাসে জ্বালানি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে অতিরিক্ত উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সম্ভাবনা যাচাই এবং সরকারি বরাদ্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়ন ও করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিলের মাধ্যমে অর্থায়নের সুযোগ অনুসন্ধান করা যেতে পারে।
এছাড়া প্রকৌশল, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও পরিবেশ সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে ব্যবহারিক শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।
এ বিষয়ে কুবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য নাইম বলেন, “কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো সময়োপযোগী একটি উদ্যোগ। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনের ছাদে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়বে এবং বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। আমরা আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”
শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহতাছিম বিল্লাহ পাটোয়ারী রিফাত বলেন, “কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আধুনিক, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা বিভিন্ন ভবন ও স্থাপনার ছাদে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছি। এর মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ ব্যয় কমানো এবং পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব। আমরা আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে একটি সমন্বিত সৌরবিদ্যুৎ পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে।”
