মৌলভীবাজার থেকে রাজন হোসেন তৌফিক
প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম
বুধবার ২৬, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --
ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট
মৌলভীবাজার জনবল সংকটের অজুহাতে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে সিলেট-আখাউড়া রেলপথের ৭টি স্টেশন।জনমানবশূন্য স্টেশনগুলোর কোটি কোটি টাকার মূল্যবান জায়গা এখন দখল হয়ে যাচ্ছে। অথচ ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এসব স্টেশন একসময় ছিল এলাকার প্রাণকেন্দ্র।
বন্ধ স্টেশনগুলোর মধ্যে মৌলভীবাজার জেলায় রয়েছে ৫টি, হবিগঞ্জে ১টি এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে ১টি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শমশেরনগর-কুলাউড়ার মধ্যবর্তী স্থানে মনু, টিলাগাঁও, ভাটেরা, লংলা ও ছকাপন রেলস্টেশন বন্ধ রয়েছে। এছাড়া হবিগঞ্জের লস্করপুর ও সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ রেল স্টেশনও পুরোপুরি বন্ধ।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, লংলা, ভাটেরা, টিলাগাঁও, ছকাপন ও মনু স্টেশনগুলো ঝোপজঙ্গলে ভরে গেছে। ব্রিটিশ আমলের স্থাপনাগুলো এখনো দাঁড়িয়ে আছে ঠিকই, তবে নেই কোনো সিগন্যাল বাতি, নেই স্টেশনমাস্টার। কোনো কোনো স্টেশনে একাধিক লাইন থাকলেও এখন সরাসরি ওয়ানওয়ে লাইন করে দেওয়া হয়েছে। ট্রেন আর থামে না।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের রেলসেবা পেতে এখন দূরের স্টেশনে যেতে হচ্ছে। এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। একইসঙ্গে রেলের মূল্যবান জায়গাও দখল হয়ে যাচ্ছে।
ফেঞ্চুগঞ্জের বাসিন্দা আলী আহমেদ বলেন, স্টেশন চালু না থাকায় বাসে করে সিলেট গিয়ে ট্রেন ধরতে হয়। স্টেশন চালু হলে পুরো এলাকায় প্রাণ ফিরে আসবে।
টিলাগাঁওয়ের সোলেমান আহমেদ বলেন, আগে এখানে মেইল ট্রেন থামত। ইঞ্জিন সংকটে ট্রেন বন্ধ হওয়ার পর জনবল সংকট দেখিয়ে স্টেশনও বন্ধ করে দিল।
মনুর মাকিন আহমেদ বলেন, নামেই শুধু স্টেশন। একটি মাত্র লাইন আছে। ট্রেন না থামায় অনেকে জায়গা দখল করে নিয়েছেন। উচ্ছেদে কেউ আসে না।
স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ব্রিটিশরা প্রয়োজনে স্টেশন স্থাপন করে চালু রাখলেও আমরা তা সচল রাখতে পারিনি।
কুলাউড়া স্টেশনমাস্টার রুমান আহমেদ ও শমশেরনগর স্টেশনমাস্টার রজত কুমার রায় বলেন, স্টেশনগুলো বি ক্যাটাগরিতে আছে। মাস্টার সংকট ও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে বন্ধ।
বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান বলেন, জনবল সংকটের কারণে স্টেশনগুলো বন্ধ। জনবল নিয়োগ হলে পর্যায়ক্রমে বন্ধ স্টেশনগুলো চালু করার ভাবনা রয়েছে।