বৃহস্পতিবার ১৩, আগস্ট ২০২৬

বৃহস্পতিবার ১৩, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --

রাকসুর হ্যান্ডবল ম্যাচ পরিচালনায় পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ

রাবি থেকে মো.রেজওয়ান

প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম

ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) আয়োজিত আন্তহল হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে জুলাই ৩৬ হল ও রোকেয়া হলের মধ্যকার ম্যাচ পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত নিয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের বাইরে খেলা চালানো, খেলোয়াড়কে শাস্তি না দেওয়া এবং রাকসুর ক্রীড়া সম্পাদকের এক দলের হয়ে খেলায় অংশ নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জুলাই ৩৬ হলের খেলোয়াড়েরা।

এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাকসুর ক্রীড়া দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেয় জুলাই ৩৬ হল। অভিযোগের পর বুধবার সকালে রাকসুর গেমস কমিটির সদস্য, দুই হলের প্রাধ্যক্ষ, দুই দলের প্রতিনিধি ও কোচদের নিয়ে বৈঠক হয়। বৈঠকে রেফারির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে জানানো হয়। তবে এ সিদ্ধান্তকে ‘প্রহসন’ বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী দলের খেলোয়াড়েরা।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ম্যাচ শুরুর আগে রেফারি জানিয়েছিলেন, ১৫ মিনিট করে দুই অর্ধে মোট ৩০ মিনিট খেলা হবে। দুই অর্ধের মাঝখানে পাঁচ মিনিট বিরতি থাকবে। নির্ধারিত সময় শেষে দুই দলের স্কোর ছিল ১-১।

তবে দ্বিতীয়ার্ধের ১৫ মিনিট শেষ হওয়ার পর কোনো ঘোষণা ছাড়াই আরও প্রায় পাঁচ মিনিট খেলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছে জুলাই ৩৬ হল। খেলোয়াড়দের অতিরিক্ত সময়ের বিষয়টি জানানো হয়নি বলেও দাবি তাদের। ওই অতিরিক্ত সময়ে রোকেয়া হল গোল করার পরপরই রেফারি বাঁশি বাজিয়ে খেলা শেষ করেন। এতে জুলাই ৩৬ হলের খেলোয়াড়দের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।

জুলাই ৩৬ হলের আরও অভিযোগ, ম্যাচের শুরুতে রোকেয়া হলের এক খেলোয়াড় প্রতিপক্ষকে গালিগালাজ করলেও নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে দুই মিনিটের শাস্তি দেওয়া হয়নি।

অভিযোগকারী দলের খেলোয়াড় আনিশা মেহরা বলেন, ‘আমরা যেসব বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছি, তার একটিও আমলে নেওয়া হয়নি। আমাদের কোনো প্রশ্নের উত্তরও দেওয়া হয়নি।’

ম্যাচ শেষ হওয়ার ৩০ মিনিটের মধ্যে আপিল করা হয়নি—এমন প্রশ্নের বিষয়ে আনিশা বলেন, ‘মাঠে তখন আয়োজক কমিটির কেউ ছিলেন না। আমরা ৩০ মিনিটের মধ্যেই সহক্রীড়া সম্পাদক নূনকে বিষয়টি জানিয়েছি। আলোচনার নামে আমাদের সঙ্গে এক ধরনের প্রহসন করা হয়েছে।’

আরেক খেলোয়াড় প্রজ্ঞা লাবণ্য খান বলেন, ‘রাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক একই সঙ্গে আয়োজক কমিটির দায়িত্বে ছিলেন এবং রোকেয়া হলের হয়ে খেলেছেন। তিনি খেলায় অংশ নিলে নিরপেক্ষতা কীভাবে নিশ্চিত হয়? ম্যাচ চলাকালে আয়োজক কমিটির কেউ নিয়মিত তদারকিতে ছিলেন না।’

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক নার্গিস খাতুন। তিনি বলেন, ‘ম্যাচে নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত পাঁচ মিনিট খেলা হয়েছে। খেলায় দুই দলের জন্য দুই মিনিট করে মোট চার মিনিট এবং অফিশিয়াল টাইম-আউট হিসেবে আরও এক মিনিট যোগ হওয়ার কথা ছিল। রেফারি স্টপওয়াচ বন্ধ না করায় সময়টি খেলার সময়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। অতিরিক্ত পাঁচ মিনিট খেলা রেফারির ব্যাখ্যা ও খেলার নিয়মের ভিত্তিতেই হয়েছে।’

ম্যাচ পরিচালনায় রেফারির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে উল্লেখ করে নার্গিস খাতুন বলেন, ‘উত্থাপিত অভিযোগ নিয়ে আয়োজকদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে পক্ষপাতিত্বের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’

এর আগে ৯ আগস্ট রাকসুর আয়োজনে আন্তহল হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতা শুরু হয়।

Link copied!