রবিবার ২৬, জুলাই ২০২৬

রবিবার ২৬, জুলাই ২০২৬ -- : -- --

জুলাই শহীদদের স্মরণে কুবিতে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের দোয়া মাহফিল

কুবি থেকে আহসান হাবিব রাফি

প্রকাশিত: ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম

কুবিতে দোয়া মাহফিলে উপস্থিত মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট

জুলাই শহীদদের স্মরণে এবং তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনায় ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শাখার উদ্যোগে দোয়া মাহফিল ও ইসলাহী ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে বাদ আসর এ দোয়া মাহফিল ও ইসলাহী ইজতেমার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। তিনি ঈমান ও আমলের ফজিলত, শরিয়তের বিভিন্ন বিষয় এবং ইসলামী জীবনব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি ইসলামের মৌলিক বিধান পালন এবং কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালনার আহ্বান জানান। আলোচনা শেষে জুলাই শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন। পরে বিজয় ২৪ হলের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘শহীদ আব্দুল কাইয়ুম স্মৃতি মেডিকেল বক্স’ উদ্বোধন করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রজীবনে বৈরী পরিবেশে ঈমান নিয়ে মহান আল্লাহ তাআলার ইবাদত করার পুরস্কার অন্য পরিবেশে আমল করার তুলনায় বেশি হবে। গ্র্যাজুয়েটদের দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশ একাধিকবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ইসলামবিহীন গ্র্যাজুয়েট হওয়ার কারণেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণের সেঞ্চুরি হয়েছে।'

তিনি আরও বলেন, 'তোমরা ইসলামকে ধারণ করে গ্র্যাজুয়েট হও। ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে মানুষের মতো মানুষ হও। তাহলে দুনিয়া ও আখিরাতে মহান আল্লাহ তোমাদের পুরস্কৃত করবেন।'

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক অনুমতি না থাকলেও মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। তবে তাঁর সঙ্গে আগত নেতাকর্মীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে আসরের নামাজ আদায় করেন।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনুমতি দিতেও পারে, নাও দিতে পারে এটি তাদের এখতিয়ার। এর সঙ্গে অন্য কোনো বিষয়ের সম্পর্ক আছে বলে আমি মনে করি না। আমি আসলে কারও বিরুদ্ধে কথা বলিনি। আমি শুধু এমন কিছু ফরজ বিষয় নিয়ে কথা বলেছি, যেগুলো মানুষ অবহেলা করে। আমাদের স্থায়ী কোনো শত্রু বা স্থায়ী কোনো বন্ধু নেই। একজন মুমিনেরও স্থায়ী শত্রু বা বন্ধু থাকা উচিত নয়। আজ যদি কোনো অন্যায়কারী তওবা করে, তবে সে আমার বন্ধু। আবার কেউ যদি খারাপ কাজে লিপ্ত হয়, তবে সে আমার শত্রু।”

কুবি শাখা ইসলামী আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আবছার উদ্দিন ইফতি বলেন, ' প্রোগ্রামটা সুন্দরভাবে শেষ করতে পেরে  বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাংবাদিক বন্ধুদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। জুলাই শহীদ আব্দুল কাইয়ুমের স্মরণে আমরা একটি ‘শহীদ আব্দুল কাইয়ুম স্মৃতি মেডিকেল বক্স’ স্থাপন করেছি। আমরা এ ধরনের শিক্ষার্থীবান্ধব কাজ অব্যাহত রাখবো।'

Link copied!