রবিবার ২৬, জুলাই ২০২৬

রবিবার ২৬, জুলাই ২০২৬ -- : -- --

মনিরের মৃত্যুর বিচার চেয়ে মাভাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ৬ দফা দাবি

মাভাবিপ্রবি থেকে সাব্বির রহমান

প্রকাশিত: ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:০১ পিএম

মাভাবিপ্রবির শিক্ষার্থী মনিরুজ্জামান মনিরের মৃত্যুর ঘটনায় ছয় দফা দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মনিরুজ্জামান মনিরের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা, তাঁর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগের প্রথম বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মো. মনিরুজ্জামান মনিরের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা, পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (২৫ জুলাই) মনিরের সহপাঠী এবং রংপুর ডিভিশনাল অ্যাসোসিয়েশনের (আরডিএ) উদ্যোগে দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন ৩-এর সামনে সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপদ আবাসনের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ মিছিল শেষে শিক্ষার্থীরা সুষ্ঠু বিচারসহ ছয় দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেন।

শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত ছয় দফা দাবির মধ্যে প্রথমেই রয়েছে বিল্ডিং কোড লঙ্ঘন এবং ভাড়াটিয়া শিক্ষার্থীদের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না করার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট মেস মালিক ও পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি। একই সঙ্গে নিহত শিক্ষার্থী মনিরুজ্জামান মনিরের পরিবারকে উপযুক্ত ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও দাবি জানানো হয়।

দ্বিতীয় দাবিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ২৪ ঘণ্টা কার্যকর ‘ওয়ান কল সার্ভিস’ চালু করতে হবে। জরুরি সংবাদ পাওয়ার পর দ্রুততম সময়ে অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে এবং দায়িত্বে অবহেলার ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

তৃতীয় দাবিতে ২৩ জুলাইয়ের ঘটনায় দায়িত্ব পালনকালে অবহেলা ও বিলম্বের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট অ্যাম্বুলেন্স চালকদের চিহ্নিত করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

চতুর্থ দাবিতে বলা হয়, ‘খাজা মেসে’ অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল অথবা বিকল্প নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

পঞ্চম দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের সব মেসের অবকাঠামোগত নিরাপত্তা, বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং বসবাসের উপযোগিতা যাচাইয়ে বিশেষ তদন্ত টিম গঠনের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি অনিরাপদ মেস চিহ্নিত হলে সেখানে শিক্ষার্থীদের বসবাস নিরুৎসাহিত বা নিষিদ্ধ করার ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলা হয়।

ষষ্ঠ দাবিতে ক্যাম্পাসসংলগ্ন খাবারের দোকান ও হোটেলগুলোর খাবারের মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত প্রশাসনিক তদারকি, মনিটরিং এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

এ সময় শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো শোনেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করিম, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মনির মোর্শেদ, প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য, হল প্রভোস্টসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়। পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে শনিবারই ‘খাজা মেস’ পরিদর্শনে যাওয়ার কথাও জানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এর আগে গত ২৩ জুলাই রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থিত ‘খাজা মেসে’ অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তৃতীয় তলা থেকে নিচে পড়ে যান আইসিটি বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী মো. মনিরুজ্জামান মনির। পরে তাঁর সহপাঠীরা তাঁকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মনিরুজ্জামানের বাড়ি দিনাজপুরের বিরল উপজেলায়।

Link copied!