প্রকাশিত: ০৯ জুন ২০২৬, ১১:৫৮ পিএম
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং জ্বালানি খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকার ঋণ সহায়তা দিচ্ছে জাপান। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)-এর মধ্যে ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন (প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা) ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
মঙ্গলবার রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে “ইমার্জেন্সি সাপোর্ট লোন ফর এনহ্যান্সিং ইকোনমিক রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড স্টেবল এনার্জি সাপ্লাই” শীর্ষক এ ঋণচুক্তি সই হয়। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং জাইকার বাংলাদেশ অফিসের চিফ রিপ্রেজেনটেটিভ তাকাহাশি জুনকো। একই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও জাপান সরকারের মধ্যে একটি নোট বিনিময় চুক্তিও সই হয়। এতে বাংলাদেশের পক্ষে ইআরডি সচিব এবং জাপানের পক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি স্বাক্ষর করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “ইমার্জেন্সি সাপোর্ট লোন ফর এনহ্যান্সিং ইকোনমিক রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড স্টেবল এনার্জি সাপ্লাই” কর্মসূচির আওতায় প্রাপ্ত অর্থ দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সক্ষমতা জোরদারে ব্যয় করা হবে। জাপান সরকারের ‘পার্টনারশিপ অন ওয়াইড এনার্জি অ্যান্ড রিসোর্সেস রেজিলিয়েন্স এশিয়া (পাওয়ার এশিয়া)’ উদ্যোগের আওতায় এটিই প্রথম সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) ঋণ।
ইআরডি সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূচিটির প্রধান লক্ষ্য হলো বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও সুশাসন শক্তিশালী করা। এর আওতায় বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থার আধুনিকায়ন, জ্বালানি উৎসের বহুমুখীকরণ, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর টেকসই পরিচালনায় সহায়তা দেওয়া হবে।
এ ছাড়া বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থার উন্নত পরিকল্পনা গ্রহণ এবং জ্বালানি সাশ্রয় কার্যক্রম জোরদারের উদ্যোগও বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-এর সহ-অর্থায়নে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও সুশাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহায়তা দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সরকারের প্রত্যাশা, এই ঋণ সহায়তা দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে, জ্বালানি খাতের সক্ষমতা বাড়াতে এবং অর্থনৈতিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জনের পথে বাংলাদেশ ও জাপানের উন্নয়ন অংশীদারত্ব আরও গভীর হবে।
