প্রকাশিত: ০৯ জুন ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম
বলিউডের ‘শাহেনশাহ’ হিসেবে পরিচিত অমিতাভ বচ্চনের সাফল্যের গল্প ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম অনুপ্রেরণামূলক অধ্যায়। অভিনয়জীবনে একের পর এক ব্লকবাস্টার উপহার দিয়ে তিনি কোটি দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। তবে তার দীর্ঘ কর্মজীবনের একটি অধ্যায় আজও আলোচনায় আসে বারবার—রাজনীতিতে তার সংক্ষিপ্ত কিন্তু আলোচিত যাত্রা।
১৯৮৪ সালে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন অমিতাভ বচ্চন। সে সময় তার জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। কিন্তু রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশের কয়েক বছরের মধ্যেই নানা বিতর্ক, অভিযোগ এবং ব্যক্তিগত হতাশার মুখোমুখি হতে হয় তাকে। পরবর্তীতে একাধিক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেন, রাজনীতিতে যোগ দেওয়া ছিল তার জীবনের একটি ‘ভুল সিদ্ধান্ত’।
রাজনীতিতে তার প্রবেশের পেছনে ছিল এক আবেগঘন প্রেক্ষাপট। ১৯৮২ সালে ‘কুলি’ চলচ্চিত্রের শুটিং চলাকালে গুরুতর দুর্ঘটনায় আহত হন অমিতাভ। মৃত্যুর সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর তিনি সুস্থ হয়ে ফিরে আসেন। সেই সময়ে তার জন্য গোটা ভারতজুড়ে প্রার্থনার ঢল নেমেছিল। এই ঘটনার পর তার জনপ্রিয়তা আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায় এবং তিনি জাতীয় আইকনে পরিণত হন।
এরই মধ্যে ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর আততায়ীর গুলিতে নিহত হন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। তার মৃত্যুর পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে থাকে। সেই সময় জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন তার পুত্র রাজীব গান্ধী, যিনি ছিলেন অমিতাভ বচ্চনের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
বচ্চন পরিবার এবং নেহরু-গান্ধী পরিবারের সম্পর্ক ছিল বহু দশকের পুরোনো। অমিতাভের বাবা, খ্যাতিমান কবি হরিবংশ রাই বচ্চনের সঙ্গে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর ছিল ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। একইভাবে অমিতাভের মা তেজি বচ্চনের সঙ্গে ইন্দিরা গান্ধীর ব্যক্তিগত বন্ধুত্বও ছিল সুপরিচিত।
এই পারিবারিক ঘনিষ্ঠতা এবং বন্ধু রাজীব গান্ধীর আহ্বানেই ১৯৮৪ সালে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন অমিতাভ বচ্চন। পরবর্তীতে তিনি জানান, সিদ্ধান্তটি ছিল মূলত আবেগপ্রসূত। কোনো রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়, বরং সংকটের সময়ে বন্ধুর পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা থেকেই তিনি নির্বাচনী রাজনীতিতে অংশ নিয়েছিলেন।
তবে রাজনীতির বাস্তবতা খুব দ্রুতই তাকে ভিন্ন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করে। জনপ্রিয় অভিনেতা থেকে জনপ্রতিনিধি হওয়ার এই যাত্রা শুরু হয়েছিল ব্যাপক জনসমর্থনের মধ্য দিয়ে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা তার জীবনের সবচেয়ে বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলোর একটিতে পরিণত হয়।
