প্রকাশিত: ০২ জুন ২০২৬, ০৯:৪৮ এএম
দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেতা ও রাজনীতিক থালাপতি বিজয়কে ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিনেত্রী ও সাবেক নার্স জুলি অভিযোগ করেছেন, বিজয়ের সমর্থকদের দীর্ঘদিনের অনলাইন হয়রানি ও মানসিক চাপের কারণে তিনি গর্ভপাতের শিকার হয়েছেন।
সম্প্রতি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জুলি জানান, বিয়ের পর তিনি প্রথম সন্তানের অপেক্ষায় ছিলেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে এবং তার স্বামীকে ঘিরে ধারাবাহিক কটূক্তি, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়। এসব ঘটনার কারণে তিনি তীব্র মানসিক চাপে ভুগতে শুরু করেন।
তার দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই মানসিক নির্যাতন তার শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। পরবর্তীতে তিনি গর্ভপাতের মতো বেদনাদায়ক পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।
জুলি বলেন, ‘আমার সন্তান হারানোর জন্য বিজয় আন্না দায়ী।’ তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, থালাপতি বিজয় সরাসরি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। তার অভিযোগ, সমর্থকদের এমন আচরণ বন্ধে বিজয়ের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
অভিনেত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠিতভাবে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। এমনকি তিনি অভিযোগ দায়ের করার পর তার বিরুদ্ধে কথিত ‘১৫ লাখ টাকার কিডনি কেলেঙ্কারি’ সম্পর্কিত নানা তথ্যও ছড়িয়ে দেওয়া হয়। জুলির মতে, এসবই তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসে তিনি এ বিষয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে পরে তাকে জানানো হয়, বিষয়টি ফৌজদারি অপরাধের পরিবর্তে দেওয়ানি মানহানির আওতায় বিবেচনা করা হতে পারে।
জুলি মনে করেন, রাজনৈতিক সমর্থকদের একটি অংশ সমালোচকদের আক্রমণ বা হয়রানির পরিবর্তে জনকল্যাণমূলক কাজে ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি তিনি জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাদের অনুসারীদের আচরণ সম্পর্কে আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত থালাপতি বিজয় কিংবা তার রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম (টিভিক) কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি।
