জাককানইবি থেকে রবিউল ইসলাম শাকিল
প্রকাশিত: ২০ মে ২০২৬, ১১:৫২ পিএম
বৃহস্পতিবার ২১, মে ২০২৬ -- : -- --
ছবি।ক্যাম্পাস রিপোর্ট
নজরুল গবেষণা, স্বরলিপি তৈরি এবং শুদ্ধ সংগীতচর্চায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলা একাডেমি প্রবর্তিত ‘নজরুল পুরস্কার ২০২৬’-এর জন্য মনোনীত হয়েছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নজরুল গবেষক, স্বরলিপিকার ও সংগীতজ্ঞ প্রফেসর ড. রশিদুন্ নবী। আগামী ২৩ মে বিকাল ৩টায় বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁর হাতে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. রশিদুন্ নবী ১৯৮০ সাল থেকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সৃষ্টি নিয়ে গবেষণায় আত্মনিয়োগ করেন। দীর্ঘ সাড়ে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি নজরুলের সৃষ্টিশীলতাকে সাধারণ মানুষের কাছে শুদ্ধরূপে পৌঁছে দিতে কাজ করছেন। ১৯৮৯ সালে কবি নজরুল ইনস্টিটিউটে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর পেশাগত কর্মজীবনের সূচনা ঘটে। এরপর ২০০৭ সালে তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি অধ্যাপক (গ্রেড-১) পদে উন্নীত হন এবং ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অবসরে যান। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে কর্মরত থাকাকালীন তিনি সংগীত বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন বিভাগীয় প্রধান, দোলনচাঁপা হলের প্রতিষ্ঠাকালীন প্রভোস্ট এবং ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাশুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর প্রতিষ্ঠাকালীন পরিচালকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
শিক্ষকতার দীর্ঘ কর্মজীবনে ড. রশিদুন্ নবীকে চরম প্রতিকূলতা ও কঠিন সময় পার করতে হয়েছে। তৎকালীন স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী সরকারের স্থানীয় সংসদ সদস্যের অবৈধ দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে অস্বীকৃতি জানানোয় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হন এই গুণী শিক্ষক। কোনো কারণ ছাড়াই তাঁকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে তিনি এই অবৈধ আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আইনি লড়াই শুরু করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় তৎকালীন ফ্যাসিবাদপুষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগই প্রমাণ করতে পারেনি। অবশেষে আদালত ও সত্যের কাছে নতিস্বীকার করে প্রশাসন তাঁর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়।
বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত নজরুল-সংগীতশিল্পী এবং সংগীত পরিচালক ড. রশিদুন্ নবী নজরুল গবেষণায় এক বিশাল ভাণ্ডার রেখে চলেছেন। তিনি সর্বাধিক সংখ্যক নজরুল-সংগীতের সংকলন-গ্রন্থ 'নজরুল-সংগীত সংগ্রহ'-এর প্রধান সম্পাদক। এ পর্যন্ত নজরুল বিষয়ক গবেষণা-গ্রন্থ, স্বরলিপি-গ্রন্থ ও সম্পাদিত গ্রন্থ মিলিয়ে তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ২০টিরও বেশি। এছাড়া দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পিয়ার-রিভিউড জার্নাল ও গবেষণামূলক গ্রন্থে তাঁর প্রায় অর্ধশত প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
নজরুল চর্চায় গৌরবময় অবদানের জন্য ড. রশিদুন্ নবী এর আগেও বহু মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তিনি কবি নজরুল ইনস্টিটিউট থেকে 'নজরুল পুরস্কার ২০১৭', বাংলাভিশন ফাউন্ডেশন থেকে 'কবি নজরুল স্মৃতি পদক ২০১৭', ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চুরুলিয়ায় অবস্থিত নজরুল একাডেমি থেকে 'নজরুল পুরস্কার ২০১৮' এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'নজরুল পদক ২০২৫' লাভ করেন। বাংলা একাডেমির এই সর্বোচ্চ নজরুল পুরস্কার প্রাপ্তি তাঁর নিরলস সাধনা ও আপসহীন ব্যক্তিত্বের প্রতি রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক শ্রেষ্ঠ সম্মাননা বলে মনে করছেন দেশের সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিজীবী মহল।