প্রকাশিত: ০২ মে ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
খেলাধুলার মাধ্যমে ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপনের জন্য খুদে ক্রীড়াবিদদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে তারা বাংলাদেশকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরবে এবং প্রত্যেকে একেকজন দেশের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করবে।
শনিবার (০২ মে) বিকেলে সিলেট নগরের রিকাবীবাজার এলাকার সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে জাতীয়ভাবে আয়োজিত নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এ প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। স্টেডিয়ামে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী খুদে ক্রীড়াবিদ ও শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
খুদে খেলোয়াড়দের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আমাদের দূতাবাস আছে, তাই না? দূতাবাস যে রকম আছে, সেখানে আমাদের অ্যাম্বাসেডর আছেন। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলে তাঁরা বাংলাদেশ সম্পর্কে বিদেশের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। আমি চাই, তোমরা যারা এখানে বসে আছো, সারা বাংলাদেশে আজকে যারা স্টেডিয়ামগুলোতে বসে আছো ছোট বন্ধুরা, ইনশা আল্লাহ তোমরা স্পোর্টসের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশকে পৃথিবীর সামনে তুলে ধরবে।’
তিনি আরও বলেন, খুদে ক্রীড়াবিদ ও শিক্ষার্থীরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। ‘তোমাদের বাংলাদেশের দায়িত্ব নিতে হবে। তোমাদের মধ্যে থেকে ইনশা আল্লাহ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি হবে। তোমাদের মধ্যে থেকে ইনশা আল্লাহ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের বড় ডাক্তার, আইনজীবী, ইঞ্জিনিয়ার তৈরি হবে। তোমাদের ভেতর থেকে ভবিষ্যতে ইনশা আল্লাহ আন্তর্জাতিক মানের নেতৃত্ব তৈরি হবে। এ দেশকে তোমরা নেতৃত্ব দেবে। তোমাদের মধ্যে থেকে এমপি হবে, মন্ত্রী হবে, প্রধানমন্ত্রী হবে, প্রেসিডেন্ট হবে। তোমরাই আগামীর বাংলাদেশ।’
শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পড়ালেখা তো সবাইকে করতে হবে, পড়ালেখা কিন্তু মাফ করা যাবে না। কিন্তু পড়ালেখার পাশাপাশি প্রত্যেককে খেলতে হবে। নিজেদের তৈরি করতে হবে। তোমাকে ঠিক করে নিতে হবে, তুমি কী করবে এবং তুমি যখন নিজেকে ঠিক করে নিতে পারবে, নিজের লক্ষ্যকে স্থির করে নিতে পারবে, তখন সেই টার্গেট অ্যাচিভ করার জন্য সামনের দিকে তোমাকে এগোতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, সরকার সামর্থ্য অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে। ‘খেলার ক্ষেত্রে হোক, পড়ালেখার ক্ষেত্রে হোক, সরকার থেকে আমরা আমাদের দেশের যেই সামর্থ্য আছে, যতটুকু আমাদের ক্যাপাবিলিটি আছে, আমরা আমাদের ছোট বন্ধুদের পাশে আছি। কেউ গায়ক হবে, কেউ মিউজিশিয়ান হবে। একেকজন একেকটা হবে। সরকার, রাষ্ট্র তোমাদের পাশে আছে। কারণ, ওই যে একটু আগে বলেছি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ। তোমরা ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে।’
তিনি বলেন, প্রত্যেককে নিজের লক্ষ্য অনুযায়ী দক্ষ হয়ে গড়ে উঠতে হবে। ‘নিজেদের সুন্দরভাবে তৈরি করতে হবে। যে খেলোয়াড় হতে চাও, তাকে খেলোয়াড় হতে হবে। যে গায়ক হতে চাও, তাকে গায়ক হতে হবে। যে মিউজিশিয়ান হতে চাও, তাকে মিউজিশিয়ান হতে হবে। যে আর্কিটেক্ট হতে চাও, তাকে আর্কিটেক্ট হতে হবে। যে ইঞ্জিনিয়ার হতে চাও, তাকে ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে। যে ডাক্তার হতে চাও, তাকে ডাক্তার হতে হবে। প্রত্যেককে তোমাদের গড়ে উঠতে হবে। তাহলেই বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। আগামীর বাংলাদেশ সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে তোমাদের ওপরে।’
স্টেডিয়ামে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘তোমরা যত ভালোভাবে সুন্দরভাবে গড়ে উঠবে, বাংলাদেশ তত সুন্দরভাবে, তত শক্তিশালী ভিত্তির ওপরে গড়ে উঠবে। কাজেই ছোট বন্ধুরা, আমাদের সময় প্রায় শেষ। এখন বাংলাদেশ তাকিয়ে আছে তোমাদের দিকে। আমরা শুরু করে দিয়ে যাব। তোমাদের সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে বাংলাদেশকে।’ এ সময় তিনি খুদে ক্রীড়াবিদদের ‘চিফ গেস্ট’ বলে আখ্যায়িত করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে বেলা পৌনে চারটায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তিনি বলেন, ক্রীড়াঙ্গনে তৃণমূল পর্যায় থেকে নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করতে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ও বিকাশের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
