প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘গুপ্ত’ দেয়াললিখনকে কেন্দ্র করে ইসলামি ছাত্রশিবির ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে অন্তত ৬ জন সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে।
জানা যায়, বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় ৭১ হল ও ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল এলাকায় দেয়াললিখনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে ভিডিও ধারণ করতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির তিন সদস্য হেনস্তার শিকার হন। অভিযোগ রয়েছে, প্রাইম বাংলাদেশের প্রতিনিধি ইফতেখার সোহান সিফাতকে ভিডিও ধারণে বাধা দেন ছাত্রদল কর্মী নাভিদ আনজুম নিভান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে ভিডিও করতে বাধা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানাতে গেলে আরও দুই সাংবাদিক দৈনিক মানবজমিনের প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান খান ও নয়া দিগন্তের প্রতিনিধি হারুন ইসলাম হেনস্তার শিকার হন। পরে ছাত্রদলের সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
একই রাতে শহীদুল্লাহ হলে দেয়াললিখনকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। সেখানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি মানজুর হোসাইন মাহি, ডেইলি অবজারভারের প্রতিনিধি নাইমুর রহমান ইমন এবং সদস্য সজীব আহমেদ হেনস্তার অভিযোগ করেন।
হেনস্তার শিকার সাংবাদিক নাইমুর রহমান ইমন বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হয়েছি। পরিচয় দেওয়ার পরও আমাদের দিকে তেড়ে আসা হয় এবং মারধরের চেষ্টা করা হয়।’
এ বিষয়ে শহীদুল্লাহ হলের আবাসিক শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, ‘এটি একটি ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা। শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকদের চিনতে না পারায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।’ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমদ জানান, বিষয়টি উপাচার্যকে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল সেক্রেটারি নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, ‘এটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। আমরা বিষয়টি আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করবো।’
এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু)। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
