আফরিন আক্তার ইতি,বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১৬ পিএম
বৃহস্পতিবার ২৩, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --
ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট
পদোন্নতি সংক্রান্ত জটিলতা ও দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকটকে কেন্দ্র করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়-এ চলছে ‘ফুল একাডেমিক শাটডাউন’। গত বুধবার সকাল থেকে শিক্ষকদের এই কর্মসূচির ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের ক্লাস, পরীক্ষা ও একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজ থেকেও শিক্ষকেরা সরে দাঁড়ানোয় কার্যত অচলাবস্থা বিরাজ করছে পুরো ক্যাম্পাসে।
শিক্ষকদের অভিযোগ, উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ৬০ জন শিক্ষকের পদোন্নতি আটকে রেখেছেন। এ দাবিতে ১০ এপ্রিল পাঁচ কর্মদিবসের আলটিমেটাম দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় আন্দোলন তীব্র হয়। পরে ১৯ এপ্রিল থেকে অনশন শুরু করেন সহযোগী অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন। পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করলে কর্মবিরতি শেষে পূর্ণাঙ্গ শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
শিক্ষকদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এর সাম্প্রতিক নির্দেশনার কারণে আইনি অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আইন ও সংবিধি অনুমোদিত না থাকায় ভর্তি, পরীক্ষা ও ডিগ্রি প্রদানের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে, যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য বড় ঝুঁকি।
অন্যদিকে উপাচার্য বলেন, ২০১৭ সালের অভিন্ন নীতিমালা অনুযায়ী পদোন্নতি দিতে হবে, যা ২০২১ সালে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেয়েছে। তিনি জানান, পূর্বের নীতিমালার ভিত্তিতে পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব নয় এবং নতুন সংবিধি প্রণয়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যদের পদত্যাগের কারণে এ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বর্তমানে পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা ৬০ জন শিক্ষকের মধ্যে রয়েছেন ২৪ জন সহযোগী অধ্যাপক, ৩০ জন সহকারী অধ্যাপক ও ৬ জন প্রভাষক। এদিকে দীর্ঘ দেড় বছর ধরে নতুন শিক্ষক নিয়োগও আটকে আছে, ফলে সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
শাটডাউনের ফলে পরীক্ষার সময়সূচি ব্যাহত হওয়ায় সেশনজটের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থীরা। ইতিহাস বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, “নিজেদের স্বার্থে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করা উচিত নয়, আমরা দ্রুত সমাধান চাই।”
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এখনো পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান না আসায় অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের।