প্রকাশিত: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০৯ পিএম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়-এর ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুল হোসেন টানা ছয় বছর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে একদিনও ক্লাস মিস না করে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থী স্নাতকে পাঁচ বছর এবং স্নাতকোত্তরে এক বছর-মোট ছয় বছরে শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করেন। এমনকি করোনা মহামারির সময় অনলাইন ক্লাসেও তিনি নিয়মিত অংশগ্রহণ করেছেন। বিভাগীয় সূত্রে জানা গেছে, ফার্মেসি বিভাগের ইতিহাসে এটিই প্রথম শতভাগ উপস্থিতির রেকর্ড।
এই অসাধারণ সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে গত ২ এপ্রিল বিভাগের বিদায় অনুষ্ঠানে তাঁকে ‘অ্যাওয়ার্ড অব এক্সিলেন্স’ প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভাগের সাবেক সভাপতি উপস্থিত ছিলেন।
নাজমুলের বাড়ি কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার তুলপাই গ্রামে। বাবা মোহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ একজন স্কুলশিক্ষক। ছোটবেলা থেকেই নিয়মিত ক্লাসে যাওয়ার অভ্যাস ছিল তাঁর, যা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেও অব্যাহত রাখেন।
নাজমুল বলেন, “প্রতিটি ক্লাসকে আমি শেখার সুযোগ হিসেবে দেখেছি। শুধু পাঠ্যবই নয়, শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা থেকেও অনেক কিছু শেখা যায়।” তিনি জানান, টিউশন করানোর ব্যস্ততার মধ্যেও কখনো ক্লাস মিস করেননি।
শিক্ষাজীবনে তিনি গবেষণাতেও সক্রিয়। বর্তমানে দুটি গবেষণাগারে গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করছেন এবং আন্তর্জাতিক স্কোপাস-ইনডেক্সড জার্নালে তাঁর চারটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া তিনি ব্রিটিশ হাইকমিশন থেকে ‘ডিউক অব এডিনবার্গ ইন্টারন্যাশনাল গোল্ড অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে নাজমুল জানান, স্নাতকোত্তরের ফল প্রকাশের পর তিনি পিএইচডি করার জন্য বিদেশে যেতে চান এবং পরবর্তীতে দেশে ফিরে শিক্ষকতায় যুক্ত হতে চান।
নাজমুলের এ সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিভাগের শিক্ষকরা। বিভাগের অধ্যাপক এস এম মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, তিনি অত্যন্ত মনোযোগী ও দায়িত্বশীল শিক্ষার্থী। তাঁর পরিশ্রম ও ভদ্রতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
বিভাগের সভাপতি তানজিনা শারমিন বলেন, এমন সম্মাননা অন্য শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করবে এবং ইতিবাচক অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
