প্রকাশিত: ৩১ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) ক্যাম্পাসে অবস্থিত ‘বাংলা টিফিন’ রেস্টুরেন্টকে ঘিরে খাবারের মান ও মূল্য বৃদ্ধির অভিযোগে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে খাবারে পোকা পাওয়ার অভিযোগ এবং হঠাৎ দাম বাড়ানোর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন শিক্ষার্থীরা।
এ প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ দপ্তর হস্তক্ষেপ করেছে। দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আজ (৩১ মার্চ) থেকে রেস্টুরেন্টটিকে পূর্ব নির্ধারিত মূল্যে ফিরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, ফেব্রুয়ারি মাসে চালুর পর শুরুতে খাবারের মান সন্তোষজনক থাকলেও সম্প্রতি তা উল্লেখযোগ্যভাবে অবনতি হয়েছে। সোমবার খাবারে পোকা পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি কিছু খাবারের দাম হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, সাশ্রয়ী মূল্যে খাবার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে চালু হওয়া এই রেস্টুরেন্টে মূল্য বৃদ্ধি শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশার পরিপন্থী।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাংলা টিফিনের কর্ণধার শাকিল। তিনি বলেন, “ঈদের পর কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, বিশেষভাবে চালের মূল্য প্রতি বস্তায় প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে কিছু খাবারের দাম বাড়াতে হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “খিচুড়ির দাম ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকা করা হলেও শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ডাল দেওয়া হচ্ছে।”
খাবারে পোকা পাওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এ ধরনের কোনো ঘটনা আমাদের এখানে ঘটেনি; প্রচারিত ছবিগুলো অন্য জায়গার হতে পারে। ছবির এ ধরনের প্লেট আমাদের এখানে নেই।”
এদিকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ দপ্তর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছে এবং মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে। ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের উপ-পরিচালক অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল্লাহ্ আল মাহমুদ বলেন, “শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় দাম পুনর্বিবেচনার জন্য বলা হয়েছে এবং আগের নির্ধারিত মূল্যে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কোনোভাবেই খাবারের দাম বৃদ্ধি করা যাবে না; নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।”
তিনি আরও জানান, প্রশাসনের তৎপরতায় শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাফেটরিয়া পুরোদমে চালু করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, দ্রুতই খাবারের মান উন্নয়ন ও মূল্য নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসভিত্তিক সেবাগুলোর ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী মূল্য ও মান বজায় রাখতে কার্যকর তদারকি অব্যাহত থাকবে।
