প্রকাশিত: ১২ মার্চ ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম
ইসলামী ইতিহাসে ২২ রমজান বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এটি শুধু বদর যুদ্ধের প্রথম বড় বিজয় ও নবগঠিত রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ঘোষণার দিন নয়, বরং বিভিন্ন যুগে ইসলামের মহান ব্যক্তিত্বদের উত্থান ও বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রামের সাক্ষী।
২ হিজরিতে (৬২৪ খ্রিস্টাব্দ) বদর বিজয়ের পর মুসলিমরা মদিনায় প্রত্যাবর্তন করেন। এই বিজয় দুর্বলতার যুগ শেষ করে সার্বভৌমত্বের যুগের সূচনা ঘোষণা করে। আল্লাহর রাসুল (সা.) সদলবলে মদিনায় প্রবেশ করেন, যুদ্ধের লব্ধ সম্পদ ও বন্দিদের সঙ্গে। এ দিনে মদিনার অভ্যন্তরীণ মনাফেক ও ইহুদি প্ররোচনার প্রভাব নষ্ট হয় এবং আরবের রাজনৈতিক মানচিত্রে মদিনাকে অপ্রতিরোধ্য শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়। কোরআনে এই বিজয় স্মরণীয়ভাবে বর্ণিত হয়েছে, “অবশ্যই আল্লাহ তোমাদের বদরে সাহায্য করেছেন যখন তোমরা ছিলে হীনবল।” (সুরা আলে ইমরান, আয়াত ১২৩)
২৭৭ হিজরিতে (৮৯১ খ্রিস্টাব্দ) কর্ডোভায় জন্মগ্রহণ করেন মুসলিম স্পেনের শাসক আব্দুর রহমান আন-নাসির। কঠিন সময়ে ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনি বিচক্ষণ সামরিক ও প্রশাসনিক দক্ষতা দিয়ে দেশকে ঐক্যবদ্ধ করেন। তাঁর পাঁচ দশকের শাসনামলে কর্ডোভা হয়ে ওঠে জ্ঞান, কূটনীতি ও সংস্কৃতির কেন্দ্র। তার নির্মিত ‘মদিনাতুজ জাহরা’ প্রাসাদ সেই সময়কার বিশ্বের বিস্ময় ছিল।
৭০৫ হিজরিতে (১৩০৬ খ্রিস্টাব্দ) মিসরের কায়রোতে পৌঁছান বিখ্যাত চিন্তাবিদ ইবনে তাইমিয়া। মেমলুক যুগের উত্তাল সময়ে তিনি কারাগারে বন্দি থাকলেও সেখানে নিজের কারাকক্ষকে জ্ঞানকেন্দ্র বানান, যা আজও মুসলিম চিন্তাভাবনাকে প্রভাবিত করে।
১৩৩৬ হিজরিতে (১৯১৮ খ্রিস্টাব্দ) দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্মগ্রহণ করেন ইসলামি প্রচারক আহমদ দিদাত। যৌক্তিক বিতর্কের মাধ্যমে ইসলামের দাওয়াহকে নতুন মাত্রা দেন এবং বাইবেলসহ অন্যান্য ধর্মগ্রন্থে তার গভীর জ্ঞান ও যুক্তি বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয়।
বদর বিজয় থেকে কর্ডোভা ও কায়রোর জ্ঞানচর্চা এবং আধুনিক যুগের দাওয়াহ—২২ রমজান ইতিহাসের গৌরব ও বুদ্ধিমত্তার দিন। এটি মুসলমানদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস, যা সাহস, জ্ঞান ও ঈমানের মূল্য স্মরণ করায়।
