আব্দুল্লাহ আর রাফি,গোবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:২৯ পিএম
বুধবার ০৪, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ -- : -- --
ফাইল ফটো
পুরোনো বছরের ক্লান্তি ঝেড়ে নতুন ক্যালেন্ডারের প্রথম পাতায় পা রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ক্লাসরুম, করিডোর আর চায়ের দোকানে এখন শুধু নতুন বছরের গল্প—এই নতুন বছরে ক্যাম্পাস কেমন হবে, শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশাই বা কী? শিক্ষার্থীদের নতুন বছরের প্রত্যাশাগুলো তুলে ধরেছেন আমাদের গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়(গোবিপ্রবি) প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আর রাফি।
ক্যাম্পাস আরো পরিচ্ছন্ন এবং সবুজে ঘেরা হবে
"ক্যাম্পাস" প্রতিটি ছাত্র ছাত্রীর আবেগ! সারাদিন ক্যাম্পাসের উন্নতি নিয়ে কত শত চিন্তা ঘুরপাক খায় প্রতিটি শিক্ষার্থীর মাথায়। আমার ভাবনায় আমার ক্যাম্পাসে নতুন বছরে একটা সুন্দর প্রধান ফটক, কিছুদূর পরপর ডাস্টবিন, কোথাও কোনো আবর্জনা পড়ে নেই আর অনেকখানি সবুজ প্রান্তর ভেসে ওঠে।
এ বছর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন-এর কাছে আমার প্রত্যাশা, আমাদের প্রধান ফটক এর কাজ সম্পন্ন হবে। ক্যাম্পাস আরো পরিচ্ছন্ন এবং সবুজে ঘেরা হবে। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে ক্যাম্পাসে আরো বেশ কিছু ডাস্টবিন স্থাপন করা যেতে পারে। এবং প্রশাসনের উদ্যোগে বেশ কিছু ফুল গাছের চারা এবং ফল গাছ রোপণ করা যেতে পারে, এই তালিকায় নিম গাছকেও অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের হল এবং ক্যাফেটারিয়ার খাবারের মানোন্নয়নেও কর্তৃপক্ষের বিশেষ নজর কামনা করি।
নায়িমা আখতার
আইন বিভাগ
শিক্ষার্থীবান্ধব অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক নীতিমালা প্রণয়ন
শিক্ষার্থী হিসেবে নতুন বছরে আমার প্রত্যাশা- নির্ধারিত অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী যথাসময়ে সকল বিভাগের ক্লাস - পরীক্ষা, ফল প্রকাশ নিশ্চিত করা হবে।
দ্বিতীয়ত, লাইব্রেরি ও রিডিং রুম উপকারণসমূহের উন্নয়ন সাধন এবং গবেষণা কার্যক্রমের পরিধি বৃদ্ধি করা হবে।
তৃতীয়ত, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং, ইন্টার্নশিপ নেটওয়ার্ক, সেমিনার ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামসমূহ নিয়মিত আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করে তুলতে হবে। সর্বোপরি শিক্ষার্থীবান্ধব অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক নীতিমালাসমূহের সর্বোচ্চ সঠিক প্রণয়ন নিশ্চিত করতে হবে।
নাইমা সুলতানা
পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ
'আধুনিক ও ডিজিটাল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা'
নতুন বছরে প্রত্যাশা হলো, প্রকৃত অর্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ কী? অথবা কোন উদ্দেশ্য নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়? বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল স্টেক হোল্ডার দের মধ্যে, তা জানানো এবং বোধ সৃষ্টির ক্ষেত্র তৈরি করা।
দ্বিতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও গবেষণার এক অতুলনীয় সমন্বয় থাকতে হবে। গবেষণালব্ধ জ্ঞান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দ্বান্দিকতা মধ্য দিয়ে সুনির্দিষ্ট কাঠামোগত ভিত্তি পাবে।
তৃতীয়ত, শিক্ষা দানের ক্ষেত্রে অবাধ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
চতুর্থত, আধুনিক ও ডিজিটাল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা, যেমন ব্যাংকিং সিস্টেম থেকে সকল কার্যক্রম অনলাইনভিত্তিক করা। এবং সর্বোপরি, প্রশাসনিক আঙ্গিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে হবে।
ইমন হোসেন
আইনবিভাগ
'ক্যাম্পাসের নিজস্ব ‘রিসার্চ জার্নাল’ ও ‘রিসার্চ ফেলোশিপ’ চালু'
নানাবিধ সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক সাফল্য আমাদের অদম্য সম্ভাবনার কথাই জানান দেয়। নতুন বছরে আমার প্রত্যাশা, ক্যাম্পাসের নিজস্ব ‘রিসার্চ জার্নাল’ ও ‘রিসার্চ ফেলোশিপ’ চালু হোক। গবেষণায় পর্যাপ্ত ফান্ডিং, আধুনিক ল্যাব ও ডিজিটাল লাইব্রেরি এখন সময়ের দাবি।
দক্ষ গ্রাজুয়েট তৈরিতে ‘ইন্ডাস্ট্রি-ইউনিভার্সিটি লিংকেজ’ ও ‘স্টার্ট-আপ ইনকিউবেশন’ চালু করা জরুরি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও হয়রানি কমাতে সকল প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত ডিজিটালাইজড করা হোক। নতুন বছরে আমাদের ক্যাম্পাস নিছক কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং হয়ে উঠুক বিশ্বমানের গবেষণা ও উদ্ভাবনের প্রাণকেন্দ্র।
জন রায়
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ