প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০১ পিএম
ভবিষ্যতের অর্থনীতির চাহিদা পূরণে কেবল একাডেমিক শিক্ষা যথেষ্ট নয়; শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে ব্যবহারিক ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার সমন্বয় অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, সরকার এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) চীনের তিয়ানজিনে বিশ্ব কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা উন্নয়ন সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি দেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ (টিভেট) খাতের জাতীয় রূপকল্প তুলে ধরেন।
চীনের তিয়ানজিন মেইজিয়াং কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে ৪০টির বেশি দেশের শিক্ষামন্ত্রী এবং ১০০টির বেশি দেশের সরকারি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। এ ছাড়া ইউনেসকোর প্রতিনিধি, শিল্প খাতের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান এবং বিভিন্ন অঞ্চলের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চীনের শিক্ষামন্ত্রী হুয়াই জিনপেং, দেশটির স্টেট কাউন্সিলের ভাইস প্রিমিয়ার দিং শুয়েশিয়াং, তিয়ানজিনের মেয়র ঝাং গং, মালয়েশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আহমাদ জাহিদ হামিদি এবং ইউনেসকোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, বাংলাদেশের প্রধান সম্পদ তার জনগণ। মানবসম্পদই জাতীয় অগ্রগতির প্রধান ভিত্তি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটালাইজেশন, উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি ও সবুজ প্রযুক্তির প্রভাবে বৈশ্বিক শ্রমবাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতের অর্থনীতির চাহিদা পূরণে শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে ব্যবহারিক, প্রযুক্তিগত ও ডিজিটাল দক্ষতার সমন্বয় জরুরি।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় ইকোসিস্টেম গড়ে তুলছি, যেখানে পাঠ্যক্রম বাস্তব শিল্প খাতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। শিক্ষকেরা দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেদের নিয়মিত হালনাগাদ রাখবেন। শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে শিল্প-সংযুক্ত অভিজ্ঞতা অর্জন করবে এবং জাতীয় যোগ্যতা কাঠামো সরাসরি কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগ তৈরি করবে।’
তিনি আরও বলেন, শিক্ষাব্যবস্থাকে উৎপাদনশীলতা, উদ্ভাবন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
গত জুনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে দুই দেশ তাদের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। চীনের সফল অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ খাত আধুনিকায়ন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ জোরদার, শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিল্প-সংযুক্ত ব্যবহারিক শিক্ষার প্রসারে কাজ করবে বাংলাদেশ।
সম্মেলনের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্যের আলোকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী। প্রথমত, উদীয়মান প্রযুক্তি ও পরিবর্তিত কর্মপরিবেশের সঙ্গে তাল মেলাতে জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও অভিযোজনক্ষম ও গতিশীল করতে হবে। দ্বিতীয়ত, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের বৈশ্বিক মানদণ্ডকে সংশ্লিষ্ট দেশের অর্থনীতি, শ্রমবাজারের বাস্তবতা ও জাতীয় উন্নয়নের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। তৃতীয়ত, সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিল্প খাত, নিয়োগদাতা, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও তরুণ সমাজের মধ্যে অংশীদারত্বমূলক সহযোগিতা জোরদার করতে হবে, যাতে সম্মিলিতভাবে ভবিষ্যতের কর্মজগৎ গড়ে তোলা যায়।
