শনিবার ১৭, অক্টোবর ২০২৬

শনিবার ১৭, অক্টোবর ২০২৬ -- : -- --

৪৮তম বিশেষ বিসিএসের গেজেট থেকে বাদ পড়লেন মৌলভীবাজারের প্রসেনজিৎ  

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫২ এএম

সংগৃহীত

৪৮তম বিশেষ বিসিএসের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সব ধাপ সম্পন্ন করার পরও ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় বাদ পড়ার অভিযোগ করেছেন মৌলভীবাজারের এক তরুণ চিকিৎসক। তার দাবি, নিজের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা ফৌজদারি অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য না থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তাকে নিয়োগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় হতাশা ও অনিশ্চয়তার কথা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ভুক্তভোগী চিকিৎসকের নাম প্রসেনজিৎ নাগ। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে এমবিবিএস ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন।

নিজের অভিজ্ঞতার বিবরণ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঐ চিকিৎসক লেখেন, ৪৮তম বিশেষ বিসিএসের ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় বাদ পড়ার পর থেকে নিজেকে রাষ্ট্রের শীর্ষ অপরাধীদের একজন বলে মনে হচ্ছে। অথচ তার দাবি, তার নামে কোনো মামলা নেই এবং তিনি কখনো কোনো ফৌজদারি অপরাধ বা রাষ্ট্রদ্রোহমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না। তারপরও ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় তাকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বাদ পড়ার সম্ভাব্য কারণ প্রসঙ্গে ওই চিকিৎসক বলেন, তার নিজের বা পূর্বপুরুষদের রাজনৈতিক পরিচয় এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে। তবে নিজের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি সবসময় ক্ষমতার বলয় থেকে দূরে থেকেছেন। তার ভাষ্য, সরকারও স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া রাজনৈতিক কারণে কারও চাকরি আটকে রাখা হবে না।

ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় বাদ পড়ার কারণ জানতে না পারার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি লেখেন, তদন্ত প্রতিবেদন গোপনীয় হওয়ায় সেটি দেখার অধিকারও তার নেই বলে মনে করছেন তিনি। এমনকি আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল করার সুযোগও পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন ওই চিকিৎসক।

নিজের পেশাগত পরিচয় তুলে ধরে তিনি বলেন, একজন চিকিৎসক হিসেবে রোগীদের সেবা দেওয়াই তার মূল কাজ। শিক্ষকদের কাছ থেকে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতার ভিত্তিতে তিনি সরকারি চাকরিতে নিয়োগের জন্য যোগ্যতা অর্জন করেছেন বলে বিশ্বাস করেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে নিয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ায় শুধু তিনি নন, তার কাছ থেকে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সম্ভাবনা থেকেও সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

৪৮তম বিশেষ বিসিএসের প্রস্তুতির পেছনে নিজের জীবনের মূল্যবান একটি বছর ব্যয় করার কথা উল্লেখ করে ওই চিকিৎসক বলেন, দীর্ঘদিনের সাধনা ও প্রস্তুতির পরও অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হচ্ছে তাকে। একজন তরুণ চিকিৎসকের এক বছরের সময়কে কোনো তথ্য বা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে এভাবে আটকে রাখা যায় কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

সমস্যা সমাধানে নিজের করণীয় প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, ন্যায়বিচার পেতে হলে রাস্তায় বসে আন্দোলন, অনশন কিংবা আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাকে। তবে এসব পদক্ষেপ নিতে তার নাগরিক দায়িত্ববোধ বাধা দেয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের প্রতিকার পেতে নাগরিকদের রাস্তায় নামতে হলে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

সরকারের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে ওই চিকিৎসক বলেন, সরকার তাদের প্রতি আন্তরিক বলে তিনি বিশ্বাস করেন। এর উদাহরণ হিসেবে সম্প্রতি একটি বিসিএসে মাত্র তিন দিনের মধ্যে যোগ্য প্রার্থীদের পুনরায় গেজেটভুক্ত করার বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, সরকার চাইলে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ভুক্তভোগীদের প্রতি সুবিচার নিশ্চিত করতে পারে। হয়তো তাদের দাবি এখনো সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে পৌঁছায়নি বলেও মনে করেন তিনি।

বিসিএসে নিয়োগ না পেলেই তার জীবন থেমে যাবে না উল্লেখ করে ওই চিকিৎসক বলেন, তার মেধা ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন করতে না পারা রাষ্ট্রের ব্যর্থতা। জীবনের দুই দশকের সাধনা তাকে বর্তমান অবস্থানে নিয়ে এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্র তার যোগ্যতাকে কাজে লাগানোর সুযোগ পেয়েও তা হারাচ্ছে।

কোনো ধরনের বৈষম্যের শিকার না হয়ে চাকরি পাওয়াকে নিজের সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে উল্লেখ করে ওই চিকিৎসক জানান, ন্যায্য অধিকার আদায়ের প্রচেষ্টা তিনি চালিয়ে যাবেন।

স্ট্যাটাসের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে সুবিচার প্রত্যাশা করে ওই চিকিৎসক বলেন, তিনি কোনো করুণা চাইছেন না; বরং নাগরিক হিসেবে নিজের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে তার মতো যেসব প্রার্থী ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় বাদ পড়েছেন, তাদের বিষয়গুলো পুনর্বিবেচনা করে মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

Link copied!