শুক্রবার ২৮, আগস্ট ২০২৬

শুক্রবার ২৮, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --

রাবিতে সাংবাদিককে মারধর, মুঠোফোন থেকে ভিডিও মুছে দেওয়ার অভিযোগ

রাবি থেকে মো.রেজওয়ান

প্রকাশিত: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসিতে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) টিএসসিসিতে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এক সাংবাদিককে মারধর ও তাঁর মুঠোফোন থেকে ভিডিও মুছে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক আতিকুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যনির্বাহী সদস্য ও বাংলা ট্রিবিউনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি।

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে সংঘর্ষের সময় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন আতিকুর রহমান। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। অভিযোগে ঘটনার তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আতিকুর রহমান বলেন, বুধবার রাত ১০টার দিকে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টাধাওয়ার সময় ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে লাঠিসোঁটা হাতে রবীন্দ্র ভবনের দিকে যেতে দেখেন তিনি। এ সময় তিনি সামনে থেকে ওই মিছিলের ভিডিও ধারণ করছিলেন।

অভিযোগে তিনি বলেন, ভিডিও ধারণের কিছুক্ষণ পর ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাঁকে ঘিরে ধরেন। তাঁরা তাঁর বিভাগ ও ভিডিও ধারণের কারণ জানতে চান। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তাঁকে ভিডিও মুছে ফেলতে বলা হয়। একপর্যায়ে তাঁদের চাপের মুখে তিনি ভিডিওটি মুছে দেন।

এরপরও কয়েকজন শিক্ষার্থী তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন আতিকুর। একপর্যায়ে তাঁর কাছ থেকে মুঠোফোন নিয়ে তাতে থাকা অন্য ভিডিওগুলোও মুছে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আতিকুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সাংবাদিক হিসেবে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ঘটনা ও ভিডিও ধারণ করা তাঁর পেশাগত দায়িত্বের অংশ। দায়িত্ব পালনের সময় এ ধরনের হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজের পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

অভিযোগে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করারও দাবি জানান।

এ বিষয়ে প্রক্টরের পক্ষ থেকে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং কমিটিকে তিন দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহে প্রক্টরিয়াল টিম কাজ করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তদন্তের অংশ হিসেবে সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবে। তদন্তে প্রতিটি ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই শেষে যারা দোষী সাব্যস্ত হবেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’

Link copied!