প্রকাশিত: ২১ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩৫ এএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) তহবিলের অর্থ আত্মসাত ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। সংগঠনটির নেতারা রাকসুর আর্থিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে প্যারিস রোড প্রদক্ষিণ করে প্রশাসন ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।
শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘আমরা কোনো ব্যক্তি বা পদস্বার্থে নয়, শিক্ষার্থীদের অধিকার, অর্থ ও স্বার্থ রক্ষায় আন্দোলন করছি।’ তিনি রাকসুর বিরুদ্ধে একটি নির্দিষ্ট সংগঠনকে সুযোগ-সুবিধা দেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে আর্থিক হিসাব প্রকাশ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
রাকসুর এক প্রতিনিধির সাংবাদিকদের নিয়ে করা মন্তব্যের সমালোচনা করে সোহাগ বলেন, সাংবাদিকদের প্রতি কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের নিন্দা জানানো উচিত। একই সঙ্গে তিনি রাকসুর কার্যক্রম, বক্তব্য ও মিডিয়া কাভারেজ বর্জনের আহ্বান জানান। সাংবাদিকদের রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে সংবাদ না করার অনুরোধও করেন তিনি।
সোহাগের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ, আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত। এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহীও রাকসুর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অর্থের অপব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে তদন্তের দাবি জানান। তাঁর দাবি, প্রায় ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা অনিয়মের মাধ্যমে ব্যয় বা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ সময় তিনি এলইডি বড় পর্দা ও ভর্তি পরীক্ষার বুথ স্থাপনে অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগের উদাহরণ দেন।
রাহী বলেন, শিক্ষার্থীদের এই অর্থ কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্তের মাধ্যমে অর্থ উদ্ধার করে শিক্ষার্থীদের তহবিলে ফেরত দিতে হবে। এ দাবিতে আগামী রোববার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
বিক্ষোভ মিছিলে ‘ফান্ডের টাকা ফেরত দে’, ‘রাকসু চোর গেলি কই’, ‘ভাওচার লাগলে ভাওচার নে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। এ ছাড়া নানা স্লোগান দেওয়া হয়।
