বুধবার ০৫, আগস্ট ২০২৬

বুধবার ০৫, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --

আবাসন সংকটে সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ,নেই কোনো ছাত্রীনিবাস 

সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ থেকে ফজলে রাব্বি

প্রকাশিত: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪৯ এএম

সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ,ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট

১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বরিশালের ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ। প্রায় ছয় দশকের পথচলায় দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ এ কলেজে বর্তমানে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। এর মধ্যে প্রায় ৭ হাজার ছাত্র এবং প্রায় ৫ হাজার ছাত্রী থাকলেও আবাসন সুবিধা বলতে রয়েছে মাত্র একটি ছাত্রাবাস। অন্যদিকে কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজও নির্মিত হয়নি কোনো ছাত্রীনিবাস। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা হাজারো শিক্ষার্থী, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীরা, প্রতিনিয়ত আবাসন সংকট, নিরাপত্তাহীনতা ও যাতায়াতজনিত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, বরিশাল জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও ভোলা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও বরগুনাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী কলেজে আসেন। আবাসিক সুবিধার অভাবে অনেককে প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা পথ পাড়ি দিয়ে কলেজে আসা-যাওয়া করতে হয়। এতে সময় ও অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি পড়াশোনায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সবচেয়ে বেশি সংকটে রয়েছেন নারী শিক্ষার্থীরা। কলেজে কোনো ছাত্রীনিবাস না থাকায় অনেকেই ব্যয়বহুল মেস বা ভাড়া বাসায় থাকতে বাধ্য হন। আবার অনেক শিক্ষার্থী নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে প্রতিদিন দীর্ঘ পথ যাতায়াত করেন। এতে তাঁদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি, শারীরিক সুস্থতা ও শিক্ষাজীবন ব্যাহত হচ্ছে।

অন্যদিকে কলেজের একমাত্র শহীদ আলমগীর ছাত্রাবাসও বর্তমান শিক্ষার্থী সংখ্যার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। ফলে অধিকাংশ ছাত্র আবাসিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান খান বলেন, প্রায় সাত হাজার ছাত্রের জন্য একটি ছাত্রাবাস কখনোই চাহিদা পূরণ করতে পারে না। অন্যদিকে মেয়েদের জন্য কোনো ছাত্রীনিবাস না থাকা তাঁদের প্রতি অন্যায়। বর্তমান সময়ে ছাত্রীনিবাস না থাকাটা তাঁদের শিক্ষা ও নিরাপদ আবাসনের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার মতো। আমরা একটি ছাত্রাবাস ও একটি ছাত্রীনিবাস নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব ও কাগজপত্র পাঠিয়েছি। আমরা আশা করি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মারুফা সরণিকা বলেন, বাসা দূরে হওয়ায় প্রতিদিন ক্লাসে উপস্থিত হওয়া সম্ভব হয় না। পাবলিক পরিবহনে প্রতিনিয়ত নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়। আমাদের কলেজে একটি ছাত্রীনিবাস থাকলে অনেক কষ্ট লাঘব হতো এবং নিয়মিত ক্লাসে অংশ নিতে পারতাম। একটি আধুনিক ও নিরাপদ ছাত্রীনিবাস এখন আমাদের ন্যায্য দাবি।”

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান বলেন, শহীদ আলমগীর ছাত্রাবাসে আবেদন করতে গিয়ে জানতে পারি কোনো আসন খালি নেই। মাত্র একটি ছাত্রাবাস দিয়ে সাত হাজার ছাত্রের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। বাসা দূরে হওয়ায় নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকতে পারি না। এতে পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।”

ছাত্রনেতা ফজলে রাব্বি বলেন, সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অথচ প্রায় ৬০ বছর পরও শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটের কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। ১২ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র একটি ছাত্রাবাস এবং কোনো ছাত্রীনিবাস না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা চাই কলেজ প্রশাসন আরও জোরালোভাবে বিষয়টি অনুসরণ করুক এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় দ্রুত একটি আধুনিক ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করুক।”

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে আবাসন সংকটের বিষয়টি আলোচনায় এলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। তাঁদের মতে, কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মৌলিক চাহিদা—নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও সেই অনুপাতে আবাসন অবকাঠামোর উন্নয়ন হয়নি। ফলে প্রতিবছর হাজারো শিক্ষার্থী ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তাঁদের মতে, কলেজ প্রশাসনের ধারাবাহিক উদ্যোগ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দ্রুত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এ সংকটের সমাধান সম্ভব।

প্রায় ছয় দশকের পুরোনো এই কলেজের হাজারো শিক্ষার্থীর এখন একটাই প্রত্যাশা—দ্রুত একটি আধুনিক ছাত্রাবাস ও একটি পূর্ণাঙ্গ ছাত্রীনিবাস নির্মাণের মাধ্যমে তাঁদের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকটের স্থায়ী সমাধান করা হোক।

প্রেরক -

Link copied!