নোবিপ্রবি থেকে রাকিব মোহাম্মদ আরজু
প্রকাশিত: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
বুধবার ০৫, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --
ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ও শহীদদের স্মরণে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির,নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) শাখার উদ্যোগে ‘জুলাই অনির্বাণ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে এটি অনুষ্ঠিত হয়। শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি আরিফুর রহমানের সভাপতিত্বে উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো হাছান উদ্দিন এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক. ড আব্দুল কাইয়ুম মাসুদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান আমার কাছে একটি আবেগের নাম। ১৪ জুলাই শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার’ আখ্যা দেওয়া, ১৫ জুলাই শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এবং ১৬ জুলাই আবু সাঈদ, ওয়াসিমের শাহাদাত আন্দোলনকে গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনে দেয়। এছাড়াও ১৭ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমাবেশে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করি এবং ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্নভাবে আন্দোলনে সক্রিয় ছিলাম।
ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধে সকল ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ছিল না। তবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। আমি শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং আহতদের অবদানকে স্মরণ করছি। একই সঙ্গে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধে সব ছাত্রসংগঠন ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে মতভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, তৎকালীন সরকারের গুম, খুন, দমন-পীড়ন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ক্ষোভ থেকেই আন্দোলনের সূচনা হয়। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ব্যানারে শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালিয়ে বহু মানুষকে হত্যা করা হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে আন্দোলনে নেমে আসেন। ওই সময় শুধু আমরা তিনজন শিক্ষক শহীদ মিনারে জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ, আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছি।
নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আরিফুর রহমান বলেন, "দীর্ঘদিনের দমন-পীড়ন ও ক্যাম্পাসে একক আধিপত্যের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ থেকেই জুলাই আন্দোলনের সৃষ্টি হয়েছে। ছাত্রশিবির কখনো এ আন্দোলনের কৃতিত্ব দাবি করে না। বরং এটিকে নিজেদের দায়িত্ববোধের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের পাশে ছিল।
জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল সাম্য, মানবিকতা ও মর্যাদাভিত্তিক বাংলাদেশ গঠন। পাশাপাশি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর হামলার ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছি।
এছাড়াও উক্ত আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।