ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাওহিদ ইসলাম
প্রকাশিত: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম
বুধবার ০৫, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --
ফাইল ফটো
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) জুলাই আন্দোলনকে নস্যাৎ করতে ষড়যন্ত্রের নীল নকশা প্রণয়ন করে তৎকালীন প্রশাসন, আওয়ামীপন্থি শিক্ষক সংগঠন বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও শাপলা ফোরাম। 'শাপলা ফোরাম'-এর ব্যানারে জুলাইয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে "আর নয় হেলাফেলা, এবার হবে ফাইনাল খেলা" স্লোগান দিয়ে মিছিল করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। ২০২৪ সালের আজকের দিনে সাবেক প্রক্টর মাহবুব ও আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মিছিলটি বের করা হয়। যখন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সারাদেশব্যাপী চলছিল ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ও নৈরাজ্য। এসময় ইবির জুলাইয়ের শক্তিদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় শাপলা ফোরাম ও বঙ্গবন্ধু পরিষদ।
জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট সকালে বিপুলসংখ্যক আওয়ামীপন্থি শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ক্যাম্পাসে এসেই সকাল সাড়ে ৯টায় ভিসির বাংলোতে মিটিংয়ে বসেন এবং ছাত্রদের আন্দোলনকে দমন করার বিষয়ে রক্তস্নাত বইয়ে দেওয়ার জন্য শপথ বাক্য পাঠ করেন। তারই অংশ হিসেবে আওয়ামীপন্থি শিক্ষকের সংগঠন শাপলা ফোরামের ব্যানারে ছাত্র আন্দোলনকে নৈরাজ্য দাবি করে ভিসির বাংলোর সামনে থেকে সাবেক প্রক্টর ড. মাহবুবর রহমানের নেতৃত্বে ‘আর নয় হেলা ফেলা, এবার হবে ফাইনাল খেলা’ শিরোনামে একটি প্রতিবাদ মিছিল শুরু করেন। যার একটি প্রাপ্ত ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত আছে। ভিডিও বিশ্লেষণে, মিছিলটি সায়েন্স ফ্যাকাল্টির সামনে আসলে ড. মাহবুবুল আরেফিন, ড. শেলীনা নাসরিনসহ অন্যান্যরা ‘আর নয় হেলাফেলা, এবার হবে ফাইনাল খেলা’সহ বিভিন্ন উগ্র স্লোগান দিতে থাকে। এক পর্যায়ে মিছিলটি অনুষদ ভবনের সামনে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। সেখানেও বক্তারা উগ্র ভাষায় ছাত্রদের আন্দোলন প্রতিহত করার ঘোষণা দেয়।
পরে বৈষম্য বিরোধীদের একটি মিছিল প্রধান ফটক থেকে ডায়না চত্বরের দিকে অগ্রসর হয়। সূত্র জানায়, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মিছিলে হামলার লক্ষ্যে উদ্যত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন খান, আব্দুল হান্নান, ইব্রাহিম হোসেন সোনা, আব্দুস সালাম সেলিমসহ কয়েকজন কর্মকর্তা। পরবর্তীতে ছাত্র জনতার মিছিলে ব্যাপক উপস্থিতি দেখে তারা বিভিন্ন অনুষদে অবস্থান নেন। জানা যায়, এসময় প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্মন ও প্রফেসর ড. তপন কুমার জোদ্দারকে উদ্ধার করে আইসিটি বিভাগের প্রফেসর ড. জাহিদুল ইসলাম।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া সাবেক প্রধান সমন্বয়ক এস এম সুইট বলেন, "ইবিতে জুলাই বিরোধী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের উল্লেখযোগ্য কোনো বিচার হয়নি। তারা বহাল তবিয়তে রয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে নিয়মিত ষড়যন্ত্রের নীলনকশা তৈরি করছে। অথচ এদের বিরুদ্ধে এখন অবধি তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন। ইবিতে জুলাইয়ের সাথে স্পষ্ট বেইমানি করা হয়েছে, এখনও হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট দাবি জানাচ্ছি ফ্যাসিস্টের হোতা শাপলা ফোরামের বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। এছাড়া জানতে পেরেছি তাদেরকে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি করে বলছি এ ধরনের কোন প্রচেষ্টা চালালে অচিরেই জুলাইয়ের শক্তিদের সাথে নিয়ে ফ্যাসিস্ট ও ফ্যাসিস্টের সহযোগীদের রুখে দেওয়া হবে।"