প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৩ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ পেয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী উচ্ছাস সিকদার। দেশটির মিয়ামি ইউনিভার্সিটি, ওহাইওতে (Miami University, Ohio, USA) মাইক্রোবায়োলজি বিষয়ে ফুল-ফান্ডেড পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন তিনি।
এই প্রোগ্রামের আওতায় উচ্ছাস সিকদার ১০০ শতাংশ টিউশন ফি মওকুফের পাশাপাশি গ্র্যাজুয়েট টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ (GTA) সুবিধা পাবেন। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমে শিক্ষকতা-সহায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি গবেষণায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষার ব্যয় নির্বাহে আর্থিক সহায়তাও পাবেন তিনি।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন উচ্ছাস। শিক্ষাজীবনে গবেষণার প্রতি আগ্রহ এবং একাডেমিক অধ্যবসায়ের ধারাবাহিকতায় এবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গবেষণার সুযোগ পেলেন তিনি।
নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে উচ্ছাস সিকদার জানান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্জিত একাডেমিক জ্ঞান, গবেষণার অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা তাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণার জন্য প্রস্তুত হতে সহায়তা করেছে। মাইক্রোবায়োলজি বিষয়ে উন্নত গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান সৃষ্টির পাশাপাশি মানবকল্যাণে অবদান রাখার লক্ষ্য রয়েছে তার।
আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার কথা রয়েছে উচ্ছাস সিকদারের। তার এই অর্জনে পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী, আত্মীয়-স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। তারা উচ্ছাসের ভবিষ্যৎ গবেষণাজীবনের সাফল্য কামনা করেছেন।
উচ্ছাসের এই সাফল্যকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও তার বিভাগের জন্যও গর্বের অর্জন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় আগ্রহী বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্যও তার এই অর্জন অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।
উচ্চশিক্ষার এই সুযোগ অর্জন করায় উচ্ছাস সিকদারকে অভিনন্দন ও শুভকামনা জানিয়েছেন তার শিক্ষক, সহপাঠী ও শুভানুধ্যায়ীরা। তাদের প্রত্যাশা, যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা শেষে দেশের বিজ্ঞান ও গবেষণা খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন তিনি।
উচ্ছাস সিকদারের মা ও বোন পাপড়ি সিকদার জানান :
"উচ্ছাসের এই অর্জনে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত, আবেগাপ্লুত ও গর্বিত। ছোটবেলা থেকেই সে পড়াশোনা ও গবেষণার প্রতি নিবেদিত ছিল। তার কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির ফলেই আজ সে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি ইউনিভার্সিটিতে ফুল-ফান্ডেড পিএইচডি করার সুযোগ অর্জন করেছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞ। আমরা সকলের কাছে উচ্ছাসের জন্য দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করছি, যেন সে সফলভাবে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সুনাম আরও উজ্জ্বল করতে পারে। তার এই অর্জন যেন আরও অনেক শিক্ষার্থীকে বড় স্বপ্ন দেখতে এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে অনুপ্রাণিত করে।"
