শনিবার ১৮, জুলাই ২০২৬

শনিবার ১৮, জুলাই ২০২৬ -- : -- --

সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বিসিএস স্বপ্নজয়ের গল্প

..

প্রকাশিত: ১৭ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২ এএম

সানজিদা ইয়াসমিন পিয়া।ক্যাম্পাস রিপোর্ট

সম্প্রতি প্রকাশিত ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে বিসিএস কর ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত সানজিদা ইয়াসমিন পিয়া তার বিসিএসে সাফল্যের পথচলার গল্প তুলে ধরেছেন গালিবা রুহী

ফল প্রকাশের মুহূর্তটি কেমন ছিল? প্রথম খবরটি কাকে দিয়েছিলেন?

যেদিন রেজাল্ট হয় সেদিন বিকেলে অফিস থেকে এসে রেস্ট নিচ্ছি, এরপর আমার ফ্রেন্ডরা আমাকে প্রথমে জানায় রেজাল্ট পাব্লিশ হয়েছে, তো বাসায় যেহেতু ছিলাম আমার পাশে আমার আম্মু আব্বু আর ছোট ভাই ছিল, সার্চ দিয়ে রোল খোঁজার মুহূর্তে মনে খুব ভয় লাগছিল, আবার মনে হচ্ছিল যা হবে ভালোই হবে। এর পর যখন দেখলাম আমার রোলটা আছে, দেখে খুব অবিশ্বাস্য লাগলো এবং একটা কথাই শুধু বললাম "আলহামদুলিল্লাহ" আম্মুকে জানানোর পর আম্মু আমাকে খুশিতে জড়িয়ে ধরেছিল।

প্রস্তুতিটা কখন থেকে নেওয়া শুরু করেছিলেন?

আমার বিসিএস এর প্রস্তুতি মাস্টার্স এর রিডিং সেমিস্টার পড়াকালীন শুরু করি। এর পুর্বে বিসিএস এর দিকে আসার কোন পরিকল্পনা ছিল না। কারণ ডিপার্টমেন্টে পজিশনে থাকায় শুরু থেকেই ইচ্ছা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হব অথবা বিদেশে স্কলারশিপ নিয়ে পিএইচডি করব। তবে সার্বিক পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় বিসিএস জার্নি শুরু করি। ৪৬ তম বিসিএস এর আগেই গুরুত্ব সহকারে বিসিএস পড়া শুরু করি এবং এই বিসিএস এই প্রথম ধাপে প্রিলিমিনারি উত্তীর্ণ হই।


বিসিএস প্রস্তুতির জন্য আপনার দৈনিক রুটিন কেমন ছিল? কীভাবে পড়ার পরিকল্পনা করতেন?

আমি সেভাবে গদবাধা সময় ধরে পড়াশোনা করি নি। মাস্টার্স এর থিসিস এর কাজ এবং প্রিলির পড়াশোনা আমার সমানতালে চালানো লেগেছে। তাই চেষ্টা করতাম ল্যাব এ যাবার আগে ভোরে উঠে পড়া, এবং বিকালে ল্যাব থেকে এসে রেস্ট নিয়ে রাতে আবার পড়াশোনা করা। মূলত ৪৬ তম বিসিএস এর প্রিপারেশনই আমার ৪৭ তম বিসিএস এ কাজে লেগেছে। ৪৭ তম বিসিএস এর আগে সেভাবে পড়াশুনা করতে পারি নি সময় কম ছিল, পাশাপাশি আমি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে লেকচারার হিসেবে কর্মরত থাকায় কমই সময় দিতে পেরেছিলাম।

আমি প্রস্তুতির জন্য নিজের ব্যাসিকের উপর ফোকাস দিয়েছি। কিছু সাব্জেক্ট এ আমি নিজেকে এমন ভাবে প্রস্তুত করেছি যাতে সেগুলো আমার স্টং পয়েন্ট থাকে। আর যেগুলো তে আমার দূর্বলতা ছিল সেগুলো বিভিন্ন কোর্স করে অভারকাম করেছি। যে কোন সাব্জেক্ট এর একাধিক বই না পড়ে একটি নির্দিষ্ট বই পড়েছি এবং সেটাই বার বার রিভিশন দিয়েছি। এক্সট্রা ইনফরমেশন নোট করে রাখাও অনেক হেল্পফুল ছিল।

প্রস্তুতির সময় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী ছিল?

প্রস্তুতির সময় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বিসিএস এর বিশাল সিলেবাস এবং ধৈর্য নিয়ে সেই সিলেবাস নিজের আয়ত্তে আনা। আর বিসিএস জার্নিতে সব থেকে চ্যালেঞ্জিং ধাপ হল প্রিলি পাশ করা।

কখনো কি মনে হয়েছিল বিসিএস ছেড়ে দেবেন? সেই সময় কীভাবে নিজেকে সামলেছেন?

হ্যা, অনেক সময়ই মনে হত আমি হয়ত পারব না। হাল ছেড়ে দিতে ইচ্ছা হত। কিন্তু নিজেকে আবার সামলিয়েও নিয়েছি এই ভেবে যে আমি কখনো পিছিয়ে থাকব না, আমাকে যেভাবেই হোক সামনে সফলতার সাথে এগিয়ে যেতে হবে যত বাধা বিপত্তিই থাকুক না কেন।

আপনাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করেছেন কে?

আমাকে আমার পরিবার অনেক সাপোর্ট করেছে, বিশেষ করে আমার আম্মু, আমার আম্মুর খুব ইচ্ছা ছিল আমি যেন সম্মানের সাথে একটি সরকারি চাকরি করতে পারি। যখন খুব হতাশ লাগত তখন আমি আম্মুর সাথে কথা বলে শুধু দোয়া চাইতাম। আর তাছাড়া আমার বন্ধুবান্ধব, সিনিয়র ভাই আপুরাও আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। মনে একটা জেদ ছিল তারা পারলে আমিও পারব ইনশাআল্লাহ।

সফলতার পেছনে কোন অভ্যাসটি সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন?

সফলতার পেছনে আমি মনে করি ধারাবাহিকতা বজায় রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারন বিসিএস যেহেতু ধৈর্যের পরীক্ষা তাই হাল না ছেড়ে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে পড়াশুনা চালিয়ে নেয়াই সফলতার চাবিকাঠি।
বিসিএস প্রস্ততির ক্ষেত্রে অনেকেই যে ভুল টা করে তা হচ্ছে সিলেবাস এবং প্রিভিয়াস ইয়ারের প্রশ্ন গুলো ভালোভাবে স্টাডি না করেই বইয়ের শুরু থেকে পড়া শুরু করা। আমার ক্ষেত্রেও একই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। তাই সঠিক গাইডলাইন, সেটা হোক সিনিয়র দের থেকে অথবা কোচিং থেকে নিয়ে শুরু করলে একটা গোছানো প্রস্তুতি নেয়া যায়।

যারা এখন প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?

বর্তমানে বিসিএস এর ধারায় অনেক পরিবর্তন এসেছে, প্রশ্নপত্র থেকে শুরু করে, সময়ের ক্ষেত্রেও অনেক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। তাই নতুন যারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাদের উদ্দেশ্যে বলব আগে সিলেবাস, প্রশ্নপত্র স্টাডি করুন। কোন সাবজেক্টের কোন কোন বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ সেগুলোতে জোর দিন এবং প্রচুর মক এক্সাম দিন। প্রিলি যেহেতু সব থেকে কঠিন ধাপ তাই, প্রচুর মক টেস্টের বিকল্প নেই। আর যদি সম্ভব হয় তাহলে প্রিলির পাশাপাশি রিটেন এর জন্য নিজেকে এগিয়ে রাখার চেষ্টা করুন যেহেতু বর্তমানে রিটেনের পূর্বে খুব কম সময় পাওয়া যায়। সর্বপরি ধৈর্য সহকারে আল্লাহর নামে প্রস্তুতি শুরু করুন ইনশাআল্লাহ সফলতা আসবে। আর অবশ্যই নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন।

Link copied!