শনিবার ১৮, জুলাই ২০২৬

শনিবার ১৮, জুলাই ২০২৬ -- : -- --

হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে ৫ পরামর্শ দিলেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ জুলাই ২০২৬, ১২:০২ পিএম

ফাইল ছবি

বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ হার্ট অ্যাটাক ও অন্যান্য হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রেই আগে থেকে কিছু সতর্ক সংকেত থাকলেও তা অবহেলা করার কারণে জটিলতা বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে কোনো একক সমাধান নেই; বরং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

ভারতের হার্ট ফাউন্ডেশন বোর্ড প্রত্যয়িত হৃদরোগ সার্জন ডা. জেরেমি লন্ডন সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে পাঁচটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

ধূমপান পুরোপুরি ত্যাগ করুন
ডা. জেরেমি বলেন, ‘হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে প্রথম কাজ হলো সব ধরনের ধূমপান থেকে দূরে থাকা। শুধু সিগারেট নয়, ভ্যাপিং বা মারিজুয়ানাসহ (গাঁজা) যেকোনো ধরনের ধূমপান হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।’ তাই এসব অভ্যাস সম্পূর্ণ পরিহার করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন
হৃদরোগের অন্যতম বড় ঝুঁকির কারণ হলো উচ্চ কোলেস্টেরল। এ কারণে নিয়মিত কোলেস্টেরল পরীক্ষা করার পাশাপাশি অ্যাপোলিপোপ্রোটিন বি  এবং লিপোপ্রোটিনের (এ) মাত্রা জানার পরামর্শ দেন এই হৃদরোগ সার্জন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এপিওবি-১০০ পরীক্ষা হৃদরোগের ঝুঁকি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। অন্যদিকে, রক্তে এলপি (এ) এর মাত্রা বেশি থাকলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।

নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করুন
উচ্চ রক্তচাপ দীর্ঘমেয়াদে রক্তনালীর ভেতরের আস্তরণ ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই যাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাদের নিয়মিত রক্তচাপ পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।

ডা. জেরেমি বলেন, ‘বাড়িতে একটি রক্তচাপ মাপার যন্ত্র রাখা এবং নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।’

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখুন
ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও উচ্চ রক্তে শর্করা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অতিরিক্ত চিনি কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এতে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্থিতিশীল রাখা সহজ হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে হৃদযন্ত্রের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই সবচেয়ে কার্যকর
ডা. জেরেমি বলেন, ‘ধূমপান বর্জন, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, কোলেস্টেরল ও রক্তে শর্করার মাত্রা পর্যবেক্ষণ এসব অভ্যাস নিয়মিত অনুসরণ করলে হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। অন্যদিকে এসব বিষয় অবহেলা করলে হার্ট অ্যাটাকসহ গুরুতর জটিলতার আশঙ্কা বেড়ে যেতে পারে।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সুষম খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার বিকল্প নেই। তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস।

Link copied!