সোমবার ০৬, জুলাই ২০২৬

সোমবার ০৬, জুলাই ২০২৬ -- : -- --

ঢাবির ৮ বিভাগ একীভূত করে ৩ বিভাগ করার প্রস্তাবে শিক্ষকদের আপত্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১১:২০ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি বিভাগকে একীভূত করে তিনটি বিভাগে রূপান্তরের একটি প্রস্তাব ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ডিনস কমিটির সভায় উত্থাপিত এ প্রস্তাবের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিনদের বিভাগীয় চেয়ারম্যানদের সঙ্গে আলোচনা করে সুপারিশ দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

গত ২২ জুন অনুষ্ঠিত ডিনস কমিটির সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি এবং মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধ্যয়ন বিভাগকে একীভূত করে একটি বিভাগ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে কলা অনুষদের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ, সংগীত ও নৃত্যকলা বিভাগকে একীভূত করে একটি এবং সংস্কৃত ও পালি অ্যান্ড বৌদ্ধ স্টাডিজ বিভাগকে একত্র করে আরেকটি বিভাগ গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো একসময় একই একাডেমিক কাঠামোর আওতায় ছিল।

 

তবে প্রস্তাবটি প্রকাশ্যে আসার পর একীভূতকরণের তালিকায় থাকা কয়েকটি বিভাগের শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অন্তত দুটি এবং কলা অনুষদের তিনটি বিভাগের একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন, প্রশাসনের এ উদ্যোগ সম্পর্কে তারা আগে থেকে অবগত ছিলেন না। এমনকি বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে পূর্বে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি বলেও দাবি করেছেন তারা।

 

এরই মধ্যে টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগ এবং মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধ্যয়ন বিভাগের একাডেমিক কমিটির সভা আগামীকাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই সভায় বিভাগ দুটির আনুষ্ঠানিক অবস্থান নির্ধারণ করা হবে। তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের ভাষ্য, বিভাগ একীভূত করার প্রস্তাবের সঙ্গে তারা একমত নন।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের একজন শিক্ষক বলেন, "আমরা একাডেমিক কমিটির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানাব। তবে আমাদের সব শিক্ষকই এ ধরনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। যদি বাজার চাহিদা নিয়ে কোনো উদ্বেগ থাকে, তাহলে আসন কমানোর বিষয় বিবেচনা করা যেতে পারে। কিন্তু বিভাগ একীভূত করার আলোচনা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। আমাদের কারিকুলাম, সিলেবাস ও একাডেমিক লক্ষ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন।"

 

একই ধরনের মত প্রকাশ করেছেন থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানভীর নাহিদ খান। তিনি বলেন, "আমরা তিনটি বিভাগ—থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ, সংগীত ও নৃত্যকলা নিয়ে আলাদাভাবে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা করছিলাম। সে সময় ডিনস কমিটির এই আলোচনা আমাদের কাছে সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী মনে হয়েছে। আমাদের ডিসিপ্লিন, সিলেবাস ও কারিকুলাম স্বতন্ত্র।"

 

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, "সময়ের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে যেমন নতুন নতুন বিভাগ চালু হয়েছে, তেমনি সময়ের চাহিদা ও চাকরির বাজারের বাস্তবতা বিবেচনায় প্রয়োজন হলে কিছু বিভাগ বন্ধ বা একীভূত করার বিষয়ও বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত অবশ্যই একটি যথাযথ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিতে হবে।"

 

তিনি আরও বলেন, "বিচ্ছিন্নভাবে সিদ্ধান্ত না নিয়ে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক এবং প্রয়োজন হলে দেশের বাইরের বিশেষজ্ঞদেরও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। তাদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নিড অ্যাসেসমেন্ট ও মার্কেট অ্যাসেসমেন্ট সম্পন্ন করে তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত। কোনো বিভাগকে একীভূত করা বা বন্ধ করে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত তাড়াহুড়ো করে নেওয়ার বিষয় নয়। অন্যথায় প্রশ্ন উঠতে পারে, কেবল কয়েকটি বিভাগকেই কেন একীভূত করা হচ্ছে, অন্য বিভাগগুলোকে কেন একই প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হচ্ছে না।"

 

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে এখনও প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মতামত ও সুপারিশ পাওয়ার পরই এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

Link copied!