প্রকাশিত: ২৯ জুন ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) মেধাবৃত্তি পেয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সাত শিক্ষার্থী। এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত আন্তর্জাতিক একাডেমিক অভিজ্ঞতা বিনিময় ও স্কলারশিপ চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তাদের হাতে বৃত্তির চেক তুলে দেওয়া হয়।
সোমবার (২৯ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে চেক তুলে দেওয়া হয়। প্রত্যেক শিক্ষার্থী ২৬ হাজার টাকা করে, মোট ১ লাখ ৮২ হাজার টাকা মেধাবৃত্তি পেয়েছেন।
মেধাবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন, পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পূজা শ্রী বিশ্বাস, একই শিক্ষাবর্ষের বাংলা বিভাগের আয়েশা আক্তার, অর্থনীতি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ইসরাত জাহান রুমী, মার্কেটিং বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের হুরে জান্নাত অর্না, আইসিটি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের জান্নাতুল ফেরদাউস হৃদ্যি, আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মোহাম্মদ রেজাওনুল ইসলাম গনি এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী কোটায় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের জান্নাতুল ফেরদৌস।
অনুভূতি প্রকাশ করে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী পূজা শ্রী বিশ্বাস বলেন, "ইউজিসির স্কলারশিপ পাওয়া আমার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। এই স্কলারশিপ অর্জনের পেছনে আমার মায়ের স্বপ্ন, শিক্ষকদের অনুপ্রেরণা এবং সিনিয়র ভাইবোনদের উৎসাহ বড় ভূমিকা রেখেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সেমিস্টারে প্রথম হওয়ার পর শিক্ষকরা সবসময় আমাকে ভালো ফলাফল ধরে রাখতে উৎসাহ দিয়েছেন।"
তিনি আরও বলেন, "অনেক সময় হতাশ হয়ে পড়তাম। মনে হতো, আর হয়তো পারব না। কিন্তু সবার সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণাই আমাকে এগিয়ে যেতে সাহস দিয়েছে। আজ ইউজিসির স্কলারশিপ অর্জনের মাধ্যমে আমার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।"
আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রেজাওনুল ইসলাম গনি বলেন,'একাডেমিক জীবনে অনেক পরিশ্রম ও নির্ঘুম রাত পার করতে হয়েছে। আজ যে স্কলারশিপ পেয়েছি, এটি সেই পরিশ্রম ও মেধারই স্বীকৃতি। এই পথচলায় শিক্ষকদের উৎসাহ ও দিকনির্দেশনা আমাকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছে। পাশাপাশি নিজের দৃঢ় সংকল্পও আমার লক্ষ্য অর্জনে আমাকে সাহয্য করেছে।'
অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম বলেন, 'শিক্ষার্থীদের এই অর্জন ডকুমেন্টেশনের মাধ্যমে সবার সামনে তুলে ধরা আমাদের দায়িত্ব। এতে অন্য শিক্ষার্থীরাও অনুপ্রাণিত হবে। তাই আমি সকল বিভাগীয় প্রধানকে নিজ নিজ অনুষদের ডিনদের সঙ্গে আলোচনা করে আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে স্কলারশিপের চেক তুলে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।'
