মৌলভীবাজার থেকে রাজন হোসেন তৌফিক
প্রকাশিত: ২৯ জুন ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম
সোমবার ২৯, জুন ২০২৬ -- : -- --
মৌলভীবাজার সরকারি কলেজে দুর্নীতির অভিযোগে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে তালা দিয়ে প্রশাসনিক ভবন অবরুদ্ধ। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট
মৌলভীবাজার সরকারি কলেজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রশাসনিক ভবনের কলাপসিবল গেটে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
সোমবার ২৯ জুন দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভবন তালাবদ্ধ থাকবে উল্লেখ করে গেটে একটি সাইনবোর্ডও টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো: মনছুর আলমগীর একটি সিন্ডিকেট গড়ে ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে কলেজ ফান্ড থেকে লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করছেন।
মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ওয়ালিদ আহসান চৌধুরী নাহিদের নেতৃত্বে ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল সোমবার দুপুরে প্রথমে কলেজের প্রধান সহকারীর কাছে মিলাদ, অরিয়েন্টেশনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ব্যয়ের হিসাব ও ভাউচার দেখতে চান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রধান সহকারী সরপরি দে বিষয়টি অধ্যক্ষকে অবগত করলেও আন্দোলনকারীদের ভাউচার দেখানো হয়নি। পরে তাঁরা অধ্যক্ষের কক্ষে গেলেও তাঁকে সেখানে পাননি।
এ সময় অধ্যক্ষের কক্ষে ইংরেজি বিভাগের প্রধান প্রফেসর মো: আব্দুল মালিক এবং রসায়ন বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান রফি উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা একাধিকবার অধ্যক্ষকে ফোন করে কক্ষে এসে শিক্ষার্থীদের কথা শোনার অনুরোধ করলেও অধ্যক্ষ আসেননি বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা।
একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা শিক্ষক ও কর্মচারীদের প্রশাসনিক ভবন থেকে বের করে দিয়ে কলাপসিবল গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন। এ সময় তাঁরা ‘দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষের পদত্যাগ চাই’ স্লোগান দেন।
মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ওয়ালিদ আহসান চৌধুরী নাহিদ বলেন, “সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে আমরা মিলাদ, অরিয়েন্টেশনসহ কয়েকটি বিলের ভাউচার দেখতে চাই। কিন্তু আমাদের দেখানো হয়নি। অধ্যক্ষ নানা টালবাহানা করছেন। প্রধান সহকারীর কাছেও গেলে কোনো সমাধান মেলেনি।
অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের এই আন্দোলন। শিক্ষার্থীদের ফান্ডের টাকা আত্মসাৎ বন্ধ না করা পর্যন্ত সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে আমাদের আন্দোলন চলবে।”
এ বিষয়ে জানতে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো: মনছুর আলমগীরকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদেবার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।
এদিকে প্রশাসনিক ভবন তালাবদ্ধ থাকায় কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিভিন্ন সেবা নিতে আসা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা ভোগান্তিতে পড়েন।