প্রকাশিত: ২১ জুন ২০২৬, ১১:০৩ পিএম
দেশে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সঞ্চয়ের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে ব্যাংকভিত্তিক ‘স্কুল ব্যাংকিং’ কর্মসূচির বিস্তার বাড়ছে। সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষায়িত হিসাব চালুর মাধ্যমে অল্প বয়স থেকেই আর্থিক সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।
বর্তমানে Islami Bank Bangladesh PLC, Dutch-Bangla Bank Limited, Sonali Bank PLC, Rupali Bank PLC, Agrani Bank PLC, BRAC Bank এবং Janata Bank PLC–সহ দেশের বেশির ভাগ ব্যাংক শিক্ষার্থীদের জন্য এই সুবিধা দিচ্ছে।
সরকার মনে করছে, ছোটবেলা থেকেই সঞ্চয়ের অভ্যাস তৈরি হলে ভবিষ্যতে অর্থ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ে। এ কারণে অভিভাবকদেরও সন্তানদের সঞ্চয়ের প্রতি উৎসাহিত করতে বলা হচ্ছে। বর্তমানে দেশে অর্ধকোটির বেশি শিক্ষার্থীর ব্যাংক হিসাব রয়েছে, যেখানে সরকারি ও বেসরকারি বৃত্তির অর্থও জমা হয়।
স্কুল ব্যাংকিং মূলত শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ধরনের সঞ্চয়ী হিসাব। সাধারণত প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এ হিসাব খুলতে পারে। বেশির ভাগ ব্যাংকে অল্প পরিমাণ অর্থ জমা দিয়েই হিসাব চালু করা সম্ভব হয়।
এই ধরনের হিসাবের অন্যতম সুবিধা হলো, শিক্ষার্থীরা অল্প বয়সেই সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারে এবং একই সঙ্গে ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান অর্জন করে। অনেক ব্যাংক কম খরচে হিসাব পরিচালনার পাশাপাশি ডেবিট কার্ড, এসএমএস সেবা ও অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধাও দিচ্ছে।
হিসাব খুলতে সাধারণত শিক্ষার্থীর জন্মনিবন্ধন সনদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র বা প্রত্যয়নপত্র, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের ছবি, অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি এবং নমিনি–সংক্রান্ত তথ্য প্রয়োজন হয়। সাধারণত তিন থেকে সাত দিনের মধ্যে হিসাব চালু করা যায়।
তবে হিসাব খোলার আগে ব্যাংকভেদে ন্যূনতম জমা, মাসিক লেনদেনের সীমা ও সেবার খরচ সম্পর্কে জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। কিছু ব্যাংকে নির্দিষ্ট সীমার বেশি টাকা উত্তোলনের সুযোগ থাকে না। যেমন BRAC Bank–এর শিক্ষার্থী হিসাব থেকে মাসে সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা তোলা যায়।
Bangladesh Bank–এর সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে কার্যরত ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে ৫৯টি বর্তমানে স্টুডেন্ট ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি–মার্চ প্রান্তিক শেষে শিক্ষার্থী হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬২ লাখ ৭৩ হাজার। এসব হিসাবে জমা থাকা মোট অর্থের পরিমাণ ২ হাজার ৯১০ কোটি টাকা, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সঞ্চয়ের প্রবণতা বৃদ্ধির একটি বড় সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
