মৌলভীবাজার থেকে রাজন হোসেন তৌফিক
প্রকাশিত: ২১ মে ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম
বৃহস্পতিবার ২১, মে ২০২৬ -- : -- --
ছবি।ক্যাম্পাস রিপোর্ট
কুরবানির ঈদের হাটে এবার সবার নজর কাড়ছে মৌলভীবাজার সদরের নাজিরাবাদ ইউনিয়নের আটঘর ঘোষবাড়ীর এক দানবীয় ষাঁড়। নামেই যার পরিচয়—‘লাল বাদশা’। নামে বাদশা, রূপে রাজা গরুটি দেখলেই বোঝা যায় কেন স্থানীয়রা এমন নাম দিয়েছে।
প্রায় ১৭ থেকে ১৮ মণ ওজনের লাল রঙের এই ষাঁড়টির বয়স প্রায় ৪ বছর। বিশাল দেহ, চওড়া কাঁধ, মজবুত পা আর শান্ত স্বভাবের কারণে ইতিমধ্যেই এলাকায় চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে সে। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন এক নজর দেখতে।
গরুটির মালিক নূর মিয়া জানান, ছোটবেলা থেকেই লাল বাদশাকে নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করেছেন তিনি। কোনো রাসায়নিক ইনজেকশন বা স্টেরয়েড ব্যবহার হয়নি।
“প্রতিদিন তিন বেলা খড়, ভুসি, খৈল, ভুট্টা আর নিজের জমির টাটকা ঘাস খাওয়াই। সকাল-বিকাল গোসল করাই, গা মুছে দিই। ওর যত্নে কোনো কমতি রাখিনি,” বলেন নূর মিয়া।
তিনি জানান, শুরুতে সাধারণ দেশি জাতের বাছুর ছিল এটি। কিন্তু পরিচর্যা আর খাবারের গুণে আস্তে আস্তে বিশাল আকৃতি ধারণ করে। এলাকার মানুষই আদর করে এর নাম রেখেছে ‘লাল বাদশা’।
এবারের কুরবানির ঈদে গরুটির দাম চাওয়া হয়েছে ৮ লাখ টাকা। দাম শুনে অনেকে অবাক হলেও, গরুটি সামনে থেকে দেখলে সেই দামের যৌক্তিকতা বোঝা যায় বলে দাবি খামারির।
“এত বড়, সুস্থ আর সুন্দর গরু হাটে খুব কমই ওঠে। আমি চাই, যে কিনবে সে খুশি হয়ে নিক। টাকার চেয়ে আমার কাছে বড় হলো, গরুটার সম্মান যেন থাকে,” বলেন নূর মিয়া।
ক্রেতা চাইলে ঈদের আগ পর্যন্ত গরুটি তার গোয়ালেই রাখা হবে। প্রয়োজনে পরিবহনের ব্যবস্থাও করে দেবেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, কুরবানির আগে প্রতি বছরই আটঘর এলাকায় বড় গরু ওঠে। তবে লাল বাদশার মতো এত বড় এবং সুঠাম দেহের গরু এবারই প্রথম। অনেকেই শুধু দেখতে আসছেন, ছবি তুলছেন, ভিডিও করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ইতিমধ্যে গরুটিকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মৌলভীবাজার জেলায় কুরবানির পশুর হাট বসতে এখনও কয়েকদিন বাকি। তবে নূর মিয়া আশা করছেন, হাটে ওঠার আগেই ভালো দামে গরুটি বিক্রি হয়ে যাবে।
কুরবানির হাটের কোলাহলে এবার মৌলভীবাজারের আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে নাজিরাবাদের ‘লাল বাদশা’—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা।