প্রকাশিত: ০৫ মে ২০২৬, ০৮:৩৬ পিএম
শাপলা চত্বরের ঘটনা নিয়ে কথা বলতে জাতিকে দীর্ঘ ১৩ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন। শাপলা গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
মঙ্গলবার (৫ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সেমিনার কক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) উদ্যোগে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, “শাপলা চত্বরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কথা বলতে জাতিকে দীর্ঘ ১৩ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।”
তিনি আরও বলেন, “এ ঘটনার মধ্যে আবেগ, দুঃখ এবং গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার বিষয় রয়েছে। তৎকালীন রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাজনৈতিক শক্তির দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ড জাতির জন্য একটি গভীর ক্ষত।”
উপাচার্য বলেন, “সেদিন যারা নবী করিম (সা.)-এর সম্মান রক্ষায় ও ধর্মীয় অনুভূতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে সমাবেশে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তারা ছিলেন সাহসী ও দৃঢ়চেতা মানুষ।” তিনি শহীদদের প্রকৃত ইতিহাস জাতির সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান এবং ঘটনার সত্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে মূল আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন শিক্ষক ও লেখক আলী হাসান উসামা। তিনি ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বর এলাকায় হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাতের অভিযানের প্রেক্ষাপট, ১৩ দফা দাবি এবং পরবর্তী ঘটনাবলি বিশ্লেষণ করেন।
তিনি বলেন, “ওই ঘটনায় ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষের ওপর রাষ্ট্রীয় শক্তির কঠোর দমন-পীড়ন চালানো হয়েছিল। পিলখানা হত্যাকাণ্ড ও শাপলা চত্বরের ঘটনার পর পর্যাপ্ত প্রতিবাদ না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। পাশাপাশি, ঘটনার পর বিভিন্ন পক্ষের নীরবতা সত্য উদঘাটনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এখনো পর্যন্ত শহীদদের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ না হওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর না নেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন। তিনি বলেন, “শাপলা চত্বরের ঘটনা শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল।” তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রাজনৈতিক দল এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে গবেষণার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এর মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনার তথ্য ও শহীদদের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ সম্ভব বলে তিনি মত দেন।
জকসুর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম আরিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জকসু ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম।
