আফরিন আক্তার ইতি,বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৫ মে ২০২৬, ০৭:০৭ পিএম
মঙ্গলবার ০৫, মে ২০২৬ -- : -- --
শিক্ষার্থী সাকিব মিয়া
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থী সাকিব মিয়া দ্বিতীয় বর্ষে পাঁচ বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার পর উত্তরপত্রের সঠিক মূল্যায়নের দাবিতে দ্বিতীয়বারের মতো আমরণ অনশন শুরু করেছেন। মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় তিনি অনশনে বসেন।
এর আগে একই দাবিতে গত ১৬ এপ্রিল অনশনে বসেছিলেন সাকিব মিয়া। সেদিন মধ্যরাতে উপাচার্যের আশ্বাসে তিনি অনশন ভাঙেন। তবে দাবি পূরণ না হওয়ায় পুনরায় অনশনে বসেছেন বলে জানান তিনি।
সাকিব মিয়া অভিযোগ করে জানান, “আমাকে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের দোহাই দিয়ে রাখা হচ্ছে। ঐটাই নাকি সিদ্ধান্ত দেবে। কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট তারিখ নেই, ইতোমধ্যে তিনবার তারিখ পরিবর্তন হয়েছে। আমার আগামীকাল ফাইনাল পরীক্ষা, আর এদিকে ২০ দিন হয়ে গেছে—অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের কোনো খবর নেই। আজকে আমার ফরম ফিলআপ করাবো, আমি উঠবো; না হলে উঠবো না।”
জানা গেছে, শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিতে চলমান কর্মসূচির কারণে গত ৩০ এপ্রিল নির্ধারিত অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। ২৮ এপ্রিল শিক্ষক সমাজ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সভা বর্জনের ঘোষণা দেয়। তবে আগামী ৮ মে সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সাকিব মিয়া ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি দ্বিতীয় বর্ষে ১৩টি বিষয়ের মধ্যে ৫টিতে অকৃতকার্য হয়ে ড্রপ-আউট হন। এর আগে প্রথম বর্ষেও কয়েকটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছিলেন।
এ বিষয়ে বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. ধীমান কুমার রায় বলেন, শিক্ষার্থীর অভিযোগ সঠিক নয় এবং তার উত্তরপত্র যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক—প্রতিটি অংশে আলাদাভাবে পাস করতে হয়। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী লিখিত অংশে প্রয়োজনীয় নম্বর অর্জন করতে পারেননি।
তিনি আরও বলেন, খাতাগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ও বাইরে দুই দফায় মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং উপাচার্যও তা পর্যালোচনা করেছেন। শিক্ষার্থী চাইলে নিয়ম অনুযায়ী পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করতে পারেন, তবে নিয়মের বাইরে গিয়ে কিছু করার সুযোগ নেই।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীকে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছে।