বৃহস্পতিবার ২৩, এপ্রিল ২০২৬

বৃহস্পতিবার ২৩, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --

বিজেএস পরিক্ষার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি কৌশল

..

প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৫ এএম

ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) লিখিত পরীক্ষা শুধু জ্ঞান যাচাইয়ের জায়গা নয় এটি আপনার উপস্থাপন ক্ষমতা, বিশ্লেষণ দক্ষতা এবং মানসিক দৃঢ়তারও পরীক্ষা। তাই শেষ মুহূর্তে কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত করবেন এবং পরীক্ষার হলে করণীয় এবং বর্জনীয় সম্পর্কে পরামর্শ দিয়েছেন ১৭ তম বিজেএসে নিয়োগপ্রাপ্ত সিভিল জজ জনাব সাদিকুর রহমান রোমান এবং লিখেছেন নায়িমা আখতার।

লেখার প্যাটার্ন

প্রশ্নের উত্তর একটা অনুচ্ছেদে না লিখে আলাদা আলাদা প্যারা করে লিখবেন, ব্লু পেন দিয়ে হেডিং দেওয়ার চেষ্টা করবেন, লেখার শুরুতে একটা ব্রিফ ডেফিনেশন দিয়ে স্টার্ট করবেন, এরপর পার্টিকুলার টপিক অনুযায়ী তার এলিমেন্ট বা উপাদানগুলো লিখবেন,এরপর রিলেভেন্ট আইন এবং স্পেসিফিক সেকশন বা আর্টিকেল আলাদাভাবে উল্লেখ করবেন । তারপর প্রশ্নে যে উত্তরটা চেয়েছে সেই উত্তরটা আইনের ধারার সাথে রিলেট করে লিখবেন, এক্ষেত্রে বুলেট পয়েন্ট ইউজ করতে পারেন। এবং অবশ্যই প্রশ্নের মধ্যে কেস রেফারেন্স উল্লেখ করবেন, এটা ম্যান্ডেটরি না, তবে দিলে উত্তরের মান বাড়ে। কেস রেফারেন্স এবং ধারাগুলো ব্লু পেন দিয়ে লিখবেন। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরের শেষে ওভারঅল একটা কনক্লুডিং রিমার্ক দিবেন।

Problematic Question কিভাবে answer করবেন?

প্রথমেই প্রদত্ত ফ্যাক্টের সামারি লিখে নিবেন খুবই সংক্ষেপে। তারপর ইস্যু উল্লেখ করবেন। তারপর রিলেভেন্ট আইন এবং তার সেকশনগুলো দিয়ে ব্যাখ্যা করবেন। সবশেষে আপনার আর্গুমেন্ট দেওয়ার পর কনক্লুশন দিয়ে লেখা শেষ করবেন।

গণিত ও বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বিশেষ কৌশল

টাইম ম্যানেজমেন্ট এক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অঙ্ক করার সময় মাথা ঠান্ডা রাখবেন। বাম পাশের পেজটাতে রাফ করবেন এবং ডান পাশের পেজে অঙ্ক করবেন। যদি কোনো অঙ্ক না পারেন, তাহলে ওটা ওখানেই স্কিপ করে পরবর্তী প্রশ্নে চলে যাবেন, টাইম ওয়েস্ট করবেন না। 

বিজ্ঞানে ভালো করতে উত্তরপত্রে রিলেভেন্ট চিত্র আঁকা একটা ভালো কৌশল। গণিত এবং বিজ্ঞান দুইটার জন্য সমানভাবে টাইম ডিস্ট্রিবিউট করে লিখবেন। গণিতে বেশি সময় দিতে গিয়ে বিজ্ঞানের উত্তরপত্র যেন খারাপ না হয়ে যায়। এবং অবশ্যই হাতের লেখা পরিষ্কার রাখবেন, কাটাকাটি করবেন না।

সময় ব্যবস্থাপনা

প্রশ্ন পাওয়ার পর প্রথম ৫–১০ মিনিট প্রশ্ন ভালোভাবে দেখে নিবেন। কোন প্রশ্নে কি উত্তর হবে, কোন ধারা বা কেসগুলো রিলেভেন্ট তা একবার রিকল করে নিবেন। তাহলে আইডিয়া হয়ে যাবে যে কোন প্রশ্নটা আপনি ভালো উত্তর করতে পারবেন। একটি প্রশ্নের পিছনে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট দেওয়া উচিত। আর বাকি ২০ মিনিট হাতে রাখা উচিত, কারণ কোনো কোনো প্রশ্নে ৩০ মিনিটের চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে। একটি প্রশ্ন সর্বোচ্চ ৮–১০ পেজ লিখলেই এনাফ, যদি যথাযথ ইনফরমেশন ইউজ করতে পারেন।

প্রশ্ন বাছাই কৌশল

আপনি যে প্রশ্নটা সব থেকে ভালো পারবেন, ওই প্রশ্নটা দিয়ে লেখা শুরু করবেন। প্রথম প্রশ্নের উত্তরটা এবং ৫ নম্বর প্রশ্নের উত্তরটা খুব সুন্দর করে লিখবেন। মাঝের তিনটা প্রশ্ন এভারেজ লিখলেও হবে।

যে ভুলগুলো বিশেষভাবে বর্জনীয়

১.একাধিক কালার পেন ইউজ করবেন না।
২.প্রশ্ন পড়ার পিছনে খুব বেশি সময় ব্যয় করা যাবে না।
৩.কঠিন প্রশ্ন দিয়ে answer করা শুরু করবেন না, সহজ প্রশ্ন দিয়ে শুরু করবেন।
৪. চারপাশের কোনোদিকে তাকাবেন না, এতে মনোযোগ নষ্ট হয়, কে কেমন পরীক্ষা দিচ্ছে এসব ভেবে প্যানিক করবেন না।
৫.কোনো এক্সাম যদি খারাপ হয়, তাহলে মন খারাপ না করে পরবর্তী পরীক্ষায় আরও ভালোভাবে দেওয়ার প্রস্তুতি নিবেন।

প্রশ্ন যদি কমন না আসে তাহলে করণীয়

যে কয়টা প্রশ্ন কমন পেয়েছেন, সেগুলো খুব ভালোভাবে লিখবেন। বাকি প্রশ্নের মধ্যে যেগুলো আপনি একটু হলেও পারেন, সেগুলো লেখার চেষ্টা করবেন। কিন্তু খাতা খালি রেখে আসা যাবে না।

পরীক্ষার হলে ঢোকার আগে মাথা ঠান্ডা রেখে ঢুকবেন। কারো সাথে অতিরিক্ত কথা বলা বা সময়ের অনেক আগে পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে বসে থাকার প্রয়োজন নেই। এবং এক্সাম দিয়ে বের হয়ে কোয়েশ্চেন সলভ করবেন না, এটা আপনার পরবর্তী এক্সামের জন্য প্রিপারেশনের এনার্জি কমিয়ে দিবে।আশা করি আপনাদের স্বপ্ন পূরণ হবে। আল্লাহ আপনাদের সহায় হোক। শুভকামনা সবার জন্য।

Link copied!