মঙ্গলবার ২১, এপ্রিল ২০২৬

মঙ্গলবার ২১, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --

গোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ঈদ ভাবনা :ঈদ হোক আনন্দ,ভ্রাতৃত্ত্ব ও সম্প্রীতির

আব্দুল্লাহ আর রাফি,গোবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম

"ঈদ" হলো সার্বজনীন খুশির ঢেউ।ছোট বড় সকলেই ঈদের আনন্দে সিক্ত। কেউ বাজার-সদাই, আত্নীয় স্বজন নিয়ে ব্যস্ততায় থাকে আবার ছোটরা ঈদে সালামী নেওয়া  ইত্যাদি কাজ মহাসমারোহে উদযাপন করে। সকলে মিলে ভ্রাতৃত্ত্বের মেলবন্ধনে অটুট থেকে ঈদের খুশি সমান ভাবে ভাগাভাগি করাই হলো ঈদের প্রধান  উদ্দেশ্য। সেই খুশির সমারোহ ঈদুল ফিতর নিয়ে গোবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের মতামত তুলে ধরেছেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য আব্দুল্লাহ আর রাফি। 


"ঈদ, ছুটি ও সালামির গল্প"

ছুটি মানেই কেবল ক্যালেন্ডারের কয়েকটা লাল দিন নয়; বরং এটি হলো পড়াশোনা, পরীক্ষা এবং শহরের যান্ত্রিক ব্যস্ততা থেকে এক চিলতে মুক্তি। ছুটি মানেই শেকড়ের টানে বাড়ি ফেরার এক রোমাঞ্চকর যাত্রা। আর তা যদি ঈদের ছুটি, তবে সেই আনন্দের মাত্রা ছাড়িয়ে যায় অন্য সব ছুটির আনন্দকে। তাছাড়া-ও, শৈশবে ঈদের মূল আকর্ষণ ছিল নতুন পোশাক এবং বড়দের সালাম করে চকচকে নোটের 'সালামি' আদায় করা। ঈদের দিন সকাল থেকেই চলত কে কত বেশি সালামি সংগ্রহ করতে পারে তার নীরব প্রতিযোগিতা। সংগৃহীত সেই টাকা কখনো সযতনে নিজের ব্যাগে রাখা হতো, আবার কখনো মায়েদের কাছে 'আমানত' হিসেবে জমা দেওয়া হতো, যা পরে আর কোনোদিনই ফেরত পাওয়া যেত না। কিন্তু সেই হারানোর মধ্যেও ছিল এক অদ্ভুত তৃপ্তি। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে সালামি দেওয়ার পদ্ধতিতে এসেছে ডিজিটাল ছোঁয়া। সালামি পাওয়ার সেই আনন্দ এখন সালামি দেওয়ার তৃপ্তিতে রূপান্তরিত হয়েছে।

মোঃ ইমন হোসেন, আইন বিভাগ, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। 


"সহমর্মিতার আরেকনাম ঈদ"

ঈদুল ফিতর মুসলিম উম্মাহর জন্য এক পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ উৎসব। এক মাস রমজানের সিয়াম সাধনার পর এই দিনটি আমাদের মাঝে তাকওয়া, সংযম ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের শিক্ষা দেয়। ঈদের মূল বার্তা হলো পারস্পরিক ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব ও সহমর্মিতা বৃদ্ধি করা।

এই দিনে আমরা পরিবার, সহপাঠী, সহকর্মী  ও সমাজের সকলের সাথে সম্পর্ক সুদৃঢ় করি, একে অপরের খোঁজখবর নেই এবং দুঃখ-দুর্দশা ভাগাভাগি করি। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, সকলের সাথে সুন্দর আচরণ ও ক্ষমাশীল মনোভাব গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জুলাই শহিদদের আত্মত্যাগ আমাদেরকে দেশপ্রেম, ঐক্য ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার শিক্ষা দেয়। তাদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে আমরা একটি ন্যায়ভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে অঙ্গীকারবদ্ধ হতে পারি।

সুতরাং, ঈদুল ফিতর আমাদেরকে আল্লাহর পথে চলা, মানবতার সেবা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে একসাথে কাজ করার প্রেরণা জোগায়।

"ঈদ মুবারাক"

-আবু দারদা, পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ

 

 "বৈষম্যহীনতায় উদযাপিত হোক ঈদুল ফিতর" 

ঈদুল ফিতর কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সামাজিক ন্যায়বোধ পুনর্জাগরণের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। এক মাসের সংযম আমাদের শেখায় আত্মনিয়ন্ত্রণ, সহমর্মিতা ও জবাবদিহিতা—যা আজকের বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ভোগবাদ ও প্রদর্শনীর চাপে ঈদের মূল চেতনাই আড়াল হয়ে যাচ্ছে। বাজারমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, নিম্নআয়ের মানুষের বঞ্চনা এবং নগর-গ্রাম বৈষম্য এই আনন্দকে অসম করে তুলছে। তাই আমাদের প্রয়োজন ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক ঈদ’—যেখানে যাকাত ও ফিতরা শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয় বরং বৈষম্য কমানোর কার্যকর হাতিয়ার হবে। প্রকৃত ঈদ তখনই,যখন সবার মুখে সমান হাসি ফুটবে।সবাইকে জানাই ঈদ মোবারক।

মো: আসিফুর রহমান অন্তু, আইন বিভাগ


"ঈদুল ফিতর: আনন্দ, ভ্রাতৃত্ব ও কৃতজ্ঞতার উৎসব।"

দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর আসে পবিত্র ঈদুল ফিতর যা মানুষের মাঝে ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগিয়ে তোলে। এটি শুধু আনন্দের বার্তাই নয়, ঈদের মূল শিক্ষা হলো সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ। এই দিনে ধনী-গরিবের ভেদাভেদ ভুলে সবাই এক কাতারে শামিল হয়।

রমজান শেষে শুধু ঈদের আনন্দই নয় বরং পুরো এক মাস রোজা রাখার তৌফিক পাওয়ায় আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করাও ঈদের অন্যতম তাৎপর্য।

সকল ভেদাভেদ ভুলে কোলাকুলির মাধ্যমে একে অপরকে আপন করে নেওয়াই ঈদের প্রকৃত সৌন্দর্য।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা একসাথে শিক্ষা, গবেষণা ও নানা কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিবারের মতো সময় কাটায়। তাই ঈদের সময় সবাই সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে পারি।


-বিলাল মিয়া কাজী , সমাজবিজ্ঞান বিভাগ 

 

"ঈদ আনন্দ সমভাবে বন্টিত হোক"

ঈদের আনন্দটা এখন আর কেবল নিজের নতুন জামার ঘ্রাণে সীমাবদ্ধ নেই; বরং ছোটবেলার সেই পাওয়ার আগ্রহ এখন রূপ নিয়েছে কাছের মানুষদের জন্য কিছু করার এক গভীর দায়িত্ববোধে। এখন নিজের কেনাকাটার চেয়ে বাবা-মা কিংবা ছোট বোনের জন্য কিছু কিনতে পারলে আরও বেশি আনন্দ দেয়। তবে বড় হওয়ার এই ব্যস্ততার মাঝেও সালামি নিয়ে আনন্দটা এখনো অমলিন; ছোটদের হাতে সালামি তুলে দেওয়ার ভালো লাগার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়রদের কাছে আবদার করে সালামি আদায়ের সেই খুনসুটি ঈদের আমেজকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। এক মাসের সিয়াম সাধনা আমাদের যে ত্যাগের শিক্ষা দেয়, তার প্রকৃত প্রতিফলন ঘটে যখন আমরা সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াই। তাই, আমি মনে করি, আমাদের সকলের উচিত নিজেদের আনন্দের সামান্য অংশ দিয়ে হলেও কোনো অসহায় মানুষের মুখে এক চিলতে হাসি ফোটানো, তখনই ঈদের আনন্দ সার্থকতা খুঁজে পাবে।

-রেদোয়ান ইসলাম সিয়াম , অর্থনীতি বিভাগ

Link copied!