প্রকাশিত: ০৫ মার্চ ২০২৬, ১০:১০ পিএম
বাংলাদেশের জনপ্রিয় টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব হানিফ সংকেতকে সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের জন্য স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে টেলিভিশনের মাধ্যমে সুস্থ বিনোদন, সামাজিক সচেতনতা এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মান দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এই ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে অভিনন্দনের ঢল। দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনের শিল্পী, নির্মাতা, সাংবাদিক ও সাধারণ দর্শক—অনেকেই তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। অনেকের মতে, সুস্থ ও শালীন বিনোদনের ধারাকে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনন্য। স্বতন্ত্র উপস্থাপনা, ছন্দময় ভাষা, তীক্ষ্ণ রসবোধ এবং ব্যতিক্রমী উপস্থাপনার জন্য অনেকেই তাঁকে ‘কথার জাদুকর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
টেলিভিশনের ইতিহাসে দীর্ঘ সময় ধরে একটি অনুষ্ঠানকে দর্শকের কাছে সমান জনপ্রিয় রাখা খুবই কঠিন। কিন্তু ইত্যাদি সেই বিরল উদাহরণ তৈরি করেছে। ১৯৮৯ সালের মার্চে বাংলাদেশ টেলিভিশন-এ প্রথম সম্প্রচারিত হয় অনুষ্ঠানটি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি শুধু বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানই নয়, বরং সমাজের অসংগতি তুলে ধরা এবং ইতিবাচক উদ্যোগকে সামনে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।
স্টুডিওর চার দেয়ালের বাইরে দেশের বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চলে অনুষ্ঠান ধারণ করার সিদ্ধান্ত ছিল ‘ইত্যাদি’র অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এর মাধ্যমে দর্শকেরা দেশের বিভিন্ন এলাকার ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষা ও মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। একই ফরম্যাট বজায় রেখেও স্থান ও বিষয়বস্তুর বৈচিত্র্যের কারণে অনুষ্ঠানটি প্রতিবারই নতুনত্ব ধরে রাখতে পেরেছে।
স্বাধীনতা পুরস্কার ঘোষণার পর এক বার্তায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন হানিফ সংকেত। তিনি বলেন, এই সম্মান শুধু তাঁর একার নয়; বরং দর্শক, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সম্মিলিত ভালোবাসার ফল। তিনি এই পুরস্কার দেশের কোটি দর্শকের উদ্দেশে উৎসর্গ করেন।
তাঁর বিশ্বাস, একটি জাতিকে আলোকিত করতে সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা অপরিহার্য। তাই ভবিষ্যতেও দায়িত্ব ও সততার সঙ্গে দেশের সংস্কৃতির উন্নয়নে কাজ করে যেতে চান তিনি।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১০ সালে একুশে পদক-এ ভূষিত হন হানিফ সংকেত। এবার রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান স্বাধীনতা পুরস্কার তাঁর দীর্ঘ সাংস্কৃতিক যাত্রাকে নতুন মাত্রায় স্বীকৃতি দিল।
