প্রকাশিত: ০৩ মার্চ ২০২৬, ১১:০২ পিএম
ঈদ উপলক্ষে নির্মিত একটি নাটকের শুটিংকে কেন্দ্র করে আলোচনায় দুই অভিনেত্রী—তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈ। সহ–অভিনেত্রীকে মারধরের অভিযোগ ওঠার পর অবশেষে এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন তিশা। তাঁর দাবি, পুরো ঘটনাটি ছিল চরিত্রের প্রয়োজনে এবং চিত্রনাট্যের নির্দেশনা অনুযায়ী।
সম্প্রতি সামিয়া অথৈ ফেসবুক লাইভে এসে অভিযোগ করেন, একটি দৃশ্যে তাঁকে চড় মারার কথা থাকলেও তিশা নাকি বাস্তবে জোরে আঘাত করেন। অথৈর ভাষ্য অনুযায়ী, শুধু একটি চড়েই বিষয়টি সীমাবদ্ধ ছিল না; শুটিং চলাকালে একাধিকবার তাঁকে আঘাত করা হয়েছে। এমনকি তাঁর চোখ ও গাল ফুলে যাওয়ার কথাও জানান তিনি। আবেগাপ্লুত হয়ে লাইভে বিচার দাবি করেন এই অভিনেত্রী।
অভিযোগের জবাবে তানজিন তিশা বলেন, নাটকে তিনি একজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন, যার আচরণ স্বাভাবিকের তুলনায় ভিন্ন ও আক্রমণাত্মক। সেই চরিত্রের বাস্তবতা ফুটিয়ে তুলতেই দৃশ্য অনুযায়ী কাজ করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, চিত্রনাট্যে যা ছিল এবং পরিচালক যেমন নির্দেশনা দিয়েছেন, ঠিক ততটুকুই করেছেন—এর বাইরে ব্যক্তিগত কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। বরং বিষয়টিকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণে রূপ দেওয়া হয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।
নাটকটি পরিচালনা করছেন রাফাত মজুমদার। এতে আরও অভিনয় করেছেন শহীদুজ্জামান সেলিমসহ একাধিক শিল্পী। সেলিম বলেন, শুটিং সেটে ছোটখাটো ভুল–বোঝাবুঝি হতেই পারে, তবে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব ছিল। তাঁর দাবি, বিষয়টি বড় আকার নেওয়ার আগেই সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে জানতে পারেন, অথৈ শুটিং সেট ছেড়ে চলে গেছেন।
এ ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তুমুল আলোচনা। কেউ তিশার বক্তব্যকে পেশাদারিত্বের অংশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ সহশিল্পীর অভিযোগকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। নাটকটি মুক্তির পরই হয়তো স্পষ্ট হবে, দৃশ্যটি কতটা অভিনয়ের প্রয়োজন ছিল আর কতটা বিতর্কের জন্ম দিল। আপাতত দুই শিল্পীর এই বিরোধ বিনোদন অঙ্গনে নতুন বিতর্কের ঢেউ তুলেছে।
