বুধবার ১১, মার্চ ২০২৬

বুধবার ১১, মার্চ ২০২৬ -- : -- --

এআই সুবিধা নাকি ফাঁদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৪ মার্চ ২০২৬, ১১:২৩ পিএম

ফাইল ফটো

যুক্তরাষ্ট্রের University of California–এর সাম্প্রতিক এক গবেষণা কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের প্রভাব নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে ধারণা ছিল, এআই মানুষের কাজের চাপ কমাবে এবং কর্মঘণ্টা হ্রাস করবে। কিন্তু গবেষণার ফল বলছে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা—এআই কাজ সহজ করলেও কর্মীদের ওপর চাপ ও কাজের তীব্রতা বরং বেড়েছে।

আট মাস ধরে ২০০ জন কর্মীর কাজের ধরণ পর্যবেক্ষণ করে গবেষকেরা দেখেছেন, এআই ব্যবহারের সুযোগ পেলে কর্মীরা ধীরে ধীরে নিজেদের কাজের গতি বাড়িয়ে দেন। শুরুতে কাউকে বাধ্য করা হয়নি; বরং বিভিন্ন এআই টুলের প্রিমিয়াম সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে দেখা যায়, কর্মীরা আগের চেয়ে দ্রুত কাজ শেষ করছেন এবং অতিরিক্ত সময়টুকু বিশ্রামে না গিয়ে নতুন কাজ হাতে নিচ্ছেন।

গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মানসিকতার পরিবর্তন। আগে যে কাজগুলো কঠিন মনে হতো, সেগুলো সহকর্মীদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হতো বা পরে করার জন্য ফেলে রাখা হতো। কিন্তু এআইয়ের সহায়তায় এখন অনেকেই একাই সেই কাজ সম্পন্ন করছেন। ফলে দলগত কাজের জায়গায় একক পরিশ্রম বেড়েছে। উৎপাদনশীলতা বাড়লেও দিন শেষে কর্মীরা চরম ক্লান্তিতে ভুগছেন এবং নিয়মিত বিরতি নেওয়ার অভ্যাস কমে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানের প্রত্যাশাও তত বাড়ছে। নিয়োগকর্তারা এখন চান কর্মীরা এআই ব্যবহার করে কয়েক গুণ বেশি আউটপুট দিন। এতে কর্মীদের মধ্যে “আরও কাজ সম্ভব” মানসিকতা তৈরি হচ্ছে, যা অজান্তেই কাজের পাহাড় গড়ে তুলছে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি খাতে কর্মরত অনেক তরুণ এখন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করছেন। বিদেশি ক্লায়েন্টদের দ্রুত কাজ সরবরাহের চাপ বেড়েছে। আয় বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদে মানসিক চাপ, অবসাদ এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার ঝুঁকি বাড়ছে।

গবেষণা বলছে, এআই নিজে সমস্যা নয়; সমস্যা হলো এর ব্যবহার ও কর্মসংস্কৃতি। প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমন নীতি গ্রহণ করতে হবে, যাতে প্রযুক্তি কর্মীদের শোষণের মাধ্যম না হয়। এআই কাজ সহজ করতে এসেছে, মানুষের ব্যক্তিগত জীবন কেড়ে নিতে নয়—এই ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

Link copied!