প্রকাশিত: ০২ মার্চ ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগে এবার দেখা গেছে অভূতপূর্ব সাড়া। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) পরিচালিত এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মোট ১৩ হাজার ৫৯৯টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ৮৬ হাজার ৪৪৫টি। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হয়। এখন প্রার্থীদের দৃষ্টি আসন্ন নিয়োগ পরীক্ষার দিকে।
এনটিআরসিএ সূত্র জানিয়েছে, পরীক্ষা আগামী এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১৭ ও ১৮ এপ্রিল পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও তারিখ কিছুটা এগিয়ে আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে চূড়ান্ত সময়সূচি শিগগিরই ঘোষণা করা হতে পারে। তবে নিশ্চিত করা হয়েছে, পরীক্ষা এপ্রিল মাসের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে।
এবারই প্রথমবারের মতো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার ও সহকারী সুপার পদে কেন্দ্রীয়ভাবে পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হবে। মোট ১০০ নম্বরের মূল্যায়ন পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। এর মধ্যে ৮০ নম্বরের এমসিকিউ লিখিত পরীক্ষা, ১২ নম্বর শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের ভিত্তিতে এবং ৮ নম্বর মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত।
লিখিত পরীক্ষার সময় থাকবে এক ঘণ্টা। প্রশ্ন থাকবে মোট ৮০টি নৈর্ব্যক্তিক। প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর দেওয়া হবে, আর ভুল উত্তরের ক্ষেত্রে কাটা যাবে ০.২৫ নম্বর। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরাই কেবল মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রতিটি ধাপে আলাদাভাবে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর অর্জন বাধ্যতামূলক।
শূন্য পদের বিবরণ অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় রয়েছে ১০ হাজার ২৭৮টি পদ। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে রয়েছে ১৪০টি এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে ৩ হাজার ১৩১টি পদ শূন্য রয়েছে। সব মিলিয়ে তিন অধিদপ্তরের অধীনে মোট ১৩ হাজার ৫৯৯টি পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।
অভিজ্ঞ শিক্ষকদের মতে, বিপুলসংখ্যক আবেদন প্রমাণ করে এই পদগুলোর প্রতি আগ্রহ ও প্রতিযোগিতা দুটোই তীব্র। এখন সবার অপেক্ষা চূড়ান্ত পরীক্ষার তারিখ ঘোষণার। এপ্রিলের এই পরীক্ষা শিক্ষাক্ষেত্রে বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
