বুধবার ১১, মার্চ ২০২৬

বুধবার ১১, মার্চ ২০২৬ -- : -- --

পূর্ণগ্রাসে রক্তাভ চাঁদের বিস্ময়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ পিএম

ফাইল ফটো

আগামী ৩ মার্চ আকাশপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা করছে এক বিরল জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা। ওই দিন ঘটবে ২০২৬ সালের একমাত্র পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ, যার সময় চাঁদ ধারণ করবে রহস্যময় লালচে আভা। এই দৃশ্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত ‘ব্লাড মুন’ বা রক্তিম চাঁদ নামে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ আবার দেখতে হলে অপেক্ষা করতে হবে ২০২৮ সালের শেষভাগ পর্যন্ত।

পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ ঘটে তখনই, যখন পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে অবস্থান নেয়। ফলে সূর্যের সরাসরি আলো চাঁদের গায়ে পৌঁছাতে পারে না। তবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ভেদ করে সূর্যের কিছু আলো প্রতিসরিত হয়ে চাঁদের ওপর পড়ে। এ সময় বায়ুমণ্ডল নীল আলোকরশ্মি বেশি বিচ্ছুরিত করে দেয় এবং লাল রঙের দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্য চাঁদের দিকে পৌঁছে যায়। এর ফলেই চাঁদকে তামাটে বা লালচে দেখায়। সূর্যাস্ত বা সূর্যোদয়ের সময় আকাশ লাল দেখানোর পেছনেও একই বৈজ্ঞানিক কারণ কাজ করে।

জানা গেছে, এই চন্দ্রগ্রহণ এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দেখা যাবে। গ্রহণের পূর্ণগ্রাস পর্যায় স্থায়ী হবে প্রায় ১২ থেকে ১৩ মিনিট। সর্বোচ্চ গ্রহণ ঘটবে সন্ধ্যা ৫টা ৩৩ মিনিটে। উত্তর ও মধ্য আমেরিকায় ভোরবেলা সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হবে এই ঘটনা। অন্যদিকে পূর্ব এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় সন্ধ্যাকাশে লাল আভাময় চাঁদ দেখা যাবে।

চন্দ্রগ্রহণ দেখার জন্য বিশেষ চশমা বা চোখের সুরক্ষা প্রয়োজন হয় না, কারণ এটি খালি চোখে দেখা সম্পূর্ণ নিরাপদ। তবে বাইনোকুলার বা টেলিস্কোপ ব্যবহার করলে চাঁদের পৃষ্ঠের রঙ ও ছায়ার পরিবর্তন আরও স্পষ্টভাবে ধরা পড়বে। শহরের কৃত্রিম আলোর বাইরে, যেখানে আলোক দূষণ কম, সেখান থেকে এই রক্তিম চাঁদের দৃশ্য হবে আরও মোহনীয়।

পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ তিনটি ধাপে সম্পন্ন হয়—প্রথমে পেনামব্রাল পর্যায়, এরপর আংশিক গ্রহণ এবং সবশেষে পূর্ণগ্রাস। শেষ ধাপেই চাঁদ সম্পূর্ণভাবে পৃথিবীর ছায়ায় আচ্ছাদিত হয়ে রক্তিম রূপ ধারণ করে, যা আকাশে সৃষ্টি করে এক অপার্থিব আবহ।

Link copied!