প্রকাশিত: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:০৭ এএম
ঈদ মানেই নতুন পোশাক, আনন্দ আয়োজন আর অতিথি আপ্যায়নের প্রস্তুতি। তবে শুধু পোশাকেই নয়, এই উৎসবের বড় অংশ জুড়ে থাকে পরিপাটি ও সাজানো-গোছানো ঘর। অনেকেই ঈদের আগে ঘর সাজাতে নতুন আসবাব, শোপিস বা পর্দা কেনেন। কিন্তু চাইলে কোনো ধরনের কেনাকাটা ছাড়াই ঘরকে নতুন রূপ দেওয়া সম্ভব—কেবল একটু পরিকল্পনা আর সৃজনশীলতার ছোঁয়ায়।
প্রথম ধাপ হতে পারে অপ্রয়োজনীয় জিনিসের তালিকা তৈরি। ঘরে জমে থাকা অকারণ জিনিসপত্র আলাদা করে সরিয়ে ফেললে জায়গা খালি হয় এবং ঘর দেখায় অনেক বেশি প্রশস্ত। যেগুলো একেবারে ফেলা যাচ্ছে না, সেগুলো সুন্দরভাবে স্টোরেজে গুছিয়ে রাখলে অগোছালো ভাব কমে যায়।
এরপর আসবাবপত্র পরিষ্কার করার দিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি। রোজার শুরু থেকেই যদি নিয়মিত ধুলাবালি ঝাড়া, কাপড় দিয়ে মুছে পরিষ্কার করা এবং ডিটারজেন্ট দিয়ে মেঝে ধোয়ার অভ্যাস করা যায়, তাহলে ঈদের আগে আলাদা করে বড় পরিষ্কারের ঝামেলা থাকে না। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ঘরই সাজের প্রথম শর্ত।
ঘরে থাকা পুরোনো জিনিসও হতে পারে নতুন সাজের উপকরণ। যেমন, অব্যবহৃত শাড়ি দিয়ে তৈরি করা যেতে পারে আকর্ষণীয় পর্দা বা কুশন কভার। প্লাস্টিকের বোতল রং করে বানানো যায় ছোট ফুলদানী বা সাজসজ্জার উপাদান। এতে খরচ নেই, আবার পরিবেশবান্ধব উদ্যোগও নেওয়া হয়।
বারান্দা বা সিঁড়িঘরেও আনা যেতে পারে পরিবর্তন। বারান্দার গাছ ঘরের ভেতর এনে রাখলে ঘরে প্রাণ ফিরে আসে। মেঝেতে শতরঞ্জি বা পাটি বিছিয়ে দেওয়া গেলে তৈরি হয় ঘরোয়া ও আরামদায়ক আবহ। সন্ধ্যায় মোমবাতি জ্বালালে আলো-ছায়ার খেলায় ঘর হয়ে ওঠে আরও নান্দনিক।
অতিথি আপ্যায়নেও থাকতে পারে সৃজনশীলতা। ঘরে থাকা থালা-বাটি বা ট্রে সুন্দরভাবে সাজিয়ে পরিবেশন করলে আলাদা করে নতুন সার্ভিং সেটের প্রয়োজন পড়ে না।
সব মিলিয়ে, একটু সময় আর যত্নই পারে ঈদের আগে ঘরকে ঝকঝকে ও প্রাণবন্ত করে তুলতে। কেনাকাটা ছাড়াই সৃজনশীল চিন্তা আর পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে ঘর সাজানো শুধু সাশ্রয়ী নয়, বরং আরও আন্তরিক ও ব্যক্তিগত অনুভূতিতে ভরা।
