প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৮ পিএম
ঈদকে সামনে রেখে দেশীয় ফ্যাশনপ্রেমীদের জন্য ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন ‘সুতোর গল্প- নিজস্বতায় বোনা উৎসব’ শুরু হয়েছে রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে। ফ্যাশন এন্টারপ্রেনারস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (এফইএবি)-এর উদ্যোগে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এই প্রদর্শনী ও মেলা ইতোমধ্যেই ঈদ কেনাকাটার অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ক্রেতাদের জন্য উন্মুক্ত থাকছে আয়োজনটি।
দেশীয় সংস্কৃতি, কারুশিল্প ও সৃজনশীল নকশাকে প্রাধান্য দিয়ে সাজানো এই মেলায় অংশ নিয়েছে ৩৯টি প্রতিষ্ঠিত ও উদীয়মান ব্র্যান্ড। জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তারাও এনেছেন বৈচিত্র্যময় ঈদ সংগ্রহ। শাড়ি, পাঞ্জাবি, সালোয়ার-কামিজ, হ্যান্ডমেইড গয়না, ব্যাগ, জুতা থেকে শুরু করে হোম ডেকর—সব মিলিয়ে এক ছাদের নিচে পূর্ণাঙ্গ ঈদ কেনাকাটার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
জামদানি, খাদি, মসলিন ও মনিপুরি অনুপ্রাণিত শাড়ির পাশাপাশি ব্লক, স্ক্রিন ও হ্যান্ড পেইন্টেড পোশাকের চাহিদা চোখে পড়ার মতো। আধুনিক ফিউশন ডিজাইনেও রয়েছে নতুনত্বের ছোঁয়া। অনেক উদ্যোক্তা পরিবেশবান্ধব কাপড় ও টেকসই ফ্যাশনের ওপর জোর দিয়েছেন, যা সচেতন ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়িয়েছে।
পোশাক ব্র্যান্ড ‘খুঁত’-এর প্রতিনিধি জানান, ঈদ উপলক্ষে ১১টি নতুন শাড়ির ডিজাইন আনা হয়েছে, যার মধ্যে ব্রিঞ্জ ব্রাউন, সাদা ও ঘিয়ের মিশ্রণে তৈরি ‘মোহনা’ শাড়িটি বেশি সাড়া ফেলেছে। সফট সিল্কের একাধিক রঙের শাড়িও দ্রুত বিক্রি হয়ে গেছে। অন্যদিকে গয়না ব্র্যান্ড ‘ঋ’-এর ডিজাইনার মাধুরি সঞ্চিতা প্রথমবারের মতো কারচুপি গয়না এনেছেন, যা হালকা ও গ্ল্যামারাস সাজ পছন্দ করা ক্রেতাদের নজর কাড়ছে।
মেলার প্রথম দিন থেকেই তরুণ-তরুণী ও কর্মজীবী নারীদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। অনেকেই রোজার শুরুতেই ঈদের কেনাকাটা সেরে ফেলতে আগ্রহী। এক ক্রেতা জানান, এক জায়গায় এত ব্র্যান্ড পাওয়ায় সময় ও খরচ দুটোই বাঁচছে।
উদ্যোক্তারা বলছেন, ঈদে দেশীয় পণ্যের প্রতি আগ্রহ বরাবরই বেশি থাকে। বিশেষ করে আলাদা ডিজাইন, হাতে তৈরি কাজ এবং স্থানীয় ফ্যাব্রিক—এই তিন বৈশিষ্ট্যই ক্রেতাদের টানছে সবচেয়ে বেশি। দেশীয় ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মেলবন্ধনে ‘সুতোর গল্প’ তাই হয়ে উঠেছে এবারের ঈদবাজারের আলোচিত আয়োজন।
